করোনাভাইরাসে জামালপুরে ২ মাসে আক্রান্ত ৩০৪, মৃত্যু ৪, সুস্থ ১৩২

 জেলায়  করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। ১ দিনে সর্বোচ্চ ৫১ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে গত ২ মাসে জেলায় করোনার রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩০৪ জন, মারা গেছে ৪ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৩২ জন। জেলার সিভিল সার্জন চিকিৎসক প্রণয় কান্তি দাস ৪ জুন সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

সিভিল সার্জন চিকিৎসক প্রণয় কান্তি দাস  জানান, ৩ জুন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে জামালপুরের একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ২০৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব নমুনার মধ্যে ৩ জুন রাতে প্রথম ২ ব্যাচের প্রতিবেদনে জেলার ইসলামপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল হক খান দুলাল ও ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ জেলায় ১৯ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়।

৩ জুন মধ্যরাতে  আরেকটি ব্যাচের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে জেলায় আরো ৩২ জনের করোনা পজিটিভ রোগী যুক্ত হয়। পরের ব্যাচে আসা প্রতিবেদনে জামালপুর জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী হাকিম ও ইসলামপুরের একজন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন। একদিনে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া ৫১ জনের মধ্যে জেলার ইসলামপুর উপজেলায় ১৭ জন, বকশীগঞ্জে ১৫ জন, সদরে ৮ জন, সরিষাবাড়ীতে ৫ জন, দেওয়ানগঞ্জে ৩ জন, মাদারগঞ্জে ২ জন ও মেলান্দহ উপজেলায় ১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নতুন করে আক্রান্তদের কয়েকজনকে প্রাতিষ্ঠানিক ও বাকিদের হোম আইসোলেশনের আওতায় এনেছেন।

চিকিৎসক প্রণয় কান্তি দাস এ প্রতিবেদককে আরও জানান, গত ৫ এপ্রিল জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের বীর ঘোষেরপাড়া গ্রামে প্রথম এক যুবকের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ২ মাসে জেলার ৭টি উপজেলায় ৩০৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জামালপুর সদর উপজেলায় ৯১ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামপুরে ৫৪ জন, মেলান্দহে ৫৩ জন, বকশীগঞ্জে ৩৯ জন, সরিষাবাড়ীতে ২৭ জন, দেওয়ানগঞ্জে ২৪ জন ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন। এ পর্যন্ত ২ নারীসহ করোনায় মারা গেছেন ৪ জন এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৩২ জন।