জাহাঙ্গীর, জেলা প্রতিনিধি:—-রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ চালুর প্রাক্কালে পার্বত্য চট্টগ্রামের উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস-এর ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর সন্ত্রাসী হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন মনির হোসেন। তার আত্মত্যাগের বিনিময়েই রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন বক্তারা। তবে দীর্ঘ বছর পার হলেও ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি এবং মনিরের পরিবার সরকারিভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধাও পায়নি।
এ অবস্থায় শহীদ মনিরের অবদান স্মরণীয় করে রাখতে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের একটি হল তার নামে নামকরণ, তার পরিবারকে সরকারি চাকরি ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের গেটের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ। এতে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিব আজম, জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. হারুন, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সহসাধারণ সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রনি, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবুসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা বিস্তারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে বারবার জেএসএস নামধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি করে আসছে। শুধু শিক্ষা নয়, সড়ক যোগাযোগ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও সামগ্রিক সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
বক্তারা আরও বলেন, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়ও এই গোষ্ঠীটি তাদের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হুমকি দিয়েছিল। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষা ও আধুনিকতার আলো থেকে বঞ্চিত রেখে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
সমাবেশ থেকে পিসিসিপি নেতৃবৃন্দ জোর দাবি জানান, অবিলম্বে ‘শহীদ’ মনির হোসেনের নামে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের একটি হলের নামকরণ করতে হবে, তার পরিবারকে পুনর্বাসন ও সরকারি চাকরি দিতে হবে এবং একই দিনে জেএসএস সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত জামাল হোসেনকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানানো হয়।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
