ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:—-যেখানে শিশুদের কোরআন শিক্ষা আর আশ্রয়ের কথা, সেই নিরব শিক্ষাঙ্গনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় একটি মহিলা মাদ্রাসায় ও এতিমখানায় হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় মো: নজরুল ইসলাম কে এক নাম্বার আসামী করে ১২ জনের নামে থানায় মামলা করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা থানাধীন ৩ নং তারাটি ইউনিয়নের বারকাহনিয়া এলাকায় অবস্থিত হযরত খাদিজাতুল কোবরা এতিমখানা ও মহিলা মাদ্রাসার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটির জমি নিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ১৯৯২ সাল থেকে চলমান এ বিরোধের নিষ্পত্তি চেয়ে আদালতে মামলা হয়। ময়মনসিংহ জজ কোর্টে চলমান ওই মামলায় একাধিকবার রায় মাদ্রাসার পক্ষে এসেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার আনুমানিক দুইটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তারা লোহার রড, বাঁশ ও কাঠের লাঠি দিয়ে শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য স্থাপনায় ভাঙচুর চালান। এ সময় প্রতিষ্ঠানে কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মালামাল নষ্ট করা হয়। ভাঙচুরের শব্দ পোয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকগণ বাধা দিলে তাদের প্রতি আক্রমণ চালায়। ঘটনার সময় কোনো শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তবে শিক্ষক ও পরিচালনা সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের আশঙ্কা, শিক্ষার্থীরা থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।
স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয়। ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা দায়ের করেছে।
৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আঃ কাদের বলেন, আমরা এ বিষয়ে একাধিক বার দরবার করেছি তারা এ ব্যাপারে অঙ্গীকার নামা দিয়েছেন এই জমিতে আর প্রবেশ করবে না। এছারা কোট থেকে তিন বার মাদ্রাসার পক্ষে রায় এসেছে তারপরও শুক্রবার তারা যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
হামলা ও ভাঙচুরের ব্যাপারে মো: নজরুল ইসলাম কে ০১৯১৪-২৫০৪৩৩ মুঠোফোনে কল করলে তিনি জানান জমির বিষয়ে আমি কিছু জানিনা এবং ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না।
এ ব্যাপারে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
