জাহাঙ্গীর, জেলা প্রতিনিধি:—পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব— বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও বিহু উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) রাঙামাটি শহরে এ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উদযাপন কমিটির উদ্যোগে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে র্যালির উদ্বোধন করেন কাজল তালুকদার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উষাতন তালুকদার। উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কৃষ্ণচন্দ্র চাকমা এবং কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এরপর পাহাড়ের কোমলমতি শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করেন। পরে র্যালিটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে প্রায় ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও বাদ্যযন্ত্রসহ অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উষাতন তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সমাধান অসম্ভব নয়; এটি একটি রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা। তিনি বলেন, সরকারের আন্তরিক উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি-এর পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক অধিকার, অস্তিত্ব, স্বাধিকার ও আত্মনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি পার্বত্যাঞ্চলকে অবহেলিত না রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে তিন দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হবে। উৎসবকে ঘিরে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পাহাড়ি জনপদ এখন উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
