এম এ রাশেদ চৌধুরী:—দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে এক নতুন সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠছে—সাংবাদিকতার নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ‘দালাল সাংবাদিকতা’র কারণে। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, একটি শ্রেণির সাংবাদিক রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছেন, যা প্রকৃত সাংবাদিকতার চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য সত্য তুলে ধরা হলেও বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য পরিবেশন এবং সমালোচনামূলক কণ্ঠ দমনের প্রবণতা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা কমছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, “সাংবাদিকতা এখন অনেক জায়গায় পেশা না, হয়ে গেছে প্রভাব খাটানোর হাতিয়ার। কেউ সরকারপন্থী, কেউ বিরোধীপন্থী—কিন্তু নিরপেক্ষতা হারিয়ে যাচ্ছে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কিছু গণমাধ্যম সত্য গোপন করে নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন শক্তিশালী নৈতিক মানদণ্ড, জবাবদিহিতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত সততা ও দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করাও জরুরি।
তাদের মতে, “সাংবাদিকতা যদি জনগণের কণ্ঠ না হয়ে ক্ষমতার মুখপাত্রে পরিণত হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে।”
সত্য ও নিরপেক্ষতার জায়গায় ফিরে না এলে ‘দালাল সাংবাদিকতা’ শুধু পেশাটিকেই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
