বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল কাদের –রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের শফিপুর গ্রামে অবস্থিত একমাত্র সরকারি কবরস্থানের মূল্যবান গাছ টেন্ডার ছাড়াই গোপনে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কথিত কবরস্থান কমিটির বিরুদ্ধে। সেইসাথে স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার নীরবতা ও পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে।
১৯৮১ সাল থেকে ৫ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত শফিপুর সরকারি কবরস্থান শফিপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকাবাসীর একমাত্র শেষ ঠিকানা। কবরস্থানের চতুর্দিকে থাকা শত শত মূল্যবান গাছ কবরস্থানের সৌন্দর্য ও সম্পদের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত ছিল।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলেও কথিত কবরস্থান কমিটি গোপনে গাছ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের বাধার কারণে সে সময় তারা সফল হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তারা পুনরায় তৎপর হয়ে ওঠে এবং গোপনে গাছগুলো বিক্রি করে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, বাজারমূল্য যেখানে প্রায় ১৪ লাখ টাকা, সেখানে মাত্র ৭ লাখ টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। বাকি ৭ লাখ টাকার হদিস মিলছে না।
নিয়ম অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি করতে হলে প্রকাশ্য টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কথিত কমিটি কোনো ধরনের টেন্ডার বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই ক্ষমতার প্রভাবে গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দিয়েছে। *স্থানীয়দের দাবি, এত বড় কাজ স্থানীয় প্রশাসনের অজান্তে বা সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।*
স্থানীয়রা জানান, কথিত এই কমিটি বিগত ১৫-২০ বছর ধরে ‘পকেট কমিটি’ হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। মসজিদে বসে নিজেরাই নিজেদের কমিটি গঠন করে “শফিপুর মসজিদ কমিটি” নামে পরিচিতি লাভ করেছে। অথচ কবরস্থানটি যেহেতু শফিপুর গ্রামের সমস্ত মানুষের, তাই সকলের অংশগ্রহণে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিনিধিত্বশীল কমিটি গঠন করা প্রয়োজন ছিল।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিরাজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এই কমিটিতে নেই। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।” স্থানীয় চেয়ারম্যানও একইভাবে এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
*এত বড় অনিয়মের পরও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।* এলাকাবাসী অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক জড়িত কথিত কমিটি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন/
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
