রাজস্থলীতে টেন্ডার ছাড়াই সরকারি কবরস্থানের ১৪ লাখ টাকার গাছ ৭ লাখে বিক্রি, বৈধ কাগজ দেখাতে পারছে না প্রিন্স”

রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি: –রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া শফিপুর ১৯৮৩ সালে সরকার কর্তৃক সেটেলমেন্টে বসবাসরত সকল বাঙ্গালীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ একর সরকারি কবরস্থানের ৪২ বছরের পুরনো পদ্মাবতী গাছ টেন্ডার ছাড়াই ৭ লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। নতুন সরকার আসার দুই মাসের মধ্যেই ৭ সদস্যের ৩টি পকেট কমিটি বানিয়ে ১৪ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ ৭ লাখে লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ।

*রূপান্তর বাংলা পত্রিকা সম্পাদক ও সোসাইটি চেয়ারম্যানের বক্তব্য*
উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে রূপান্তর বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং শিক্ষা শ্রম বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, “আমাদের নিউজ হয়েছে সরকারি কবরস্থানের গাছ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দিছে টেন্ডার ছাড়া – এই বিষয়ে। নিউজে কবরস্থানের জায়গা আমি দখল করতে গেছি বা কবরস্থানের জায়গা আমি নিব – এমন একটা কথাও লেখা নাই।”

তিনি বলেন, “আমার কথা হলো কবরস্থানের জায়গার গাছ যে বিক্রি করল, ওদের বিক্রি করার বৈধ কি কাগজপত্র আছে? সেটা প্রশাসনকে দেখাতে বলেন। বন বিভাগের অনুমতি, ইউএনওর অনুমতি, প্রকাশ্য টেন্ডারের কাগজ – কিছুই নেই। থাকলে প্রিন্স এতদিনে দেখাতো।”

*বিবিসি বাংলার নিউজ আমি করি নাই*
মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, “বিবিসি বাংলার নিউজ আমি করি নাই। এটা অন্য কেউ করেছে। আমি শুধু রূপান্তর বাংলা পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করেছি- যেহেতু ঘটনা সত্য তাই। মিজান ইচ্ছা করে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যদি খারাপ লোক হতাম তাহলে সরকার আমাকে রেজিঃ ডিএ- ৬০২১ জাতীয় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হতে অনুমতি দিত না আর শিক্ষা শ্রম বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটি জয়েন স্টক কোম্পানিজ থেকে গভমেন্ট রেজিঃ এস-১১৬৬০ নম্বরে রেজিস্ট্রেশন করা। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেতাম না।”

জাতীয় পত্রিকা ও সোসাইটির দায়িত্ব যারা পেয়েছে তাদের ক্লিয়ারেন্স দেয় সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা- পুলিশ + ডিবি + এসবি ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ(nsi)

আমার নামে মামলা মোকদ্দমা থাকলে আমি খারাপ লোক হলে, ওরা আমার পক্ষে রিপোর্ট দিবে কেন??

আমার নামে থানায় কোন মামলা রেকর্ড আছে কিনা স্থানীয় থানায় জিজ্ঞাসা করলে তো জানা যাবে /

মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, “আমি ২৪ এর জুলাই যুদ্ধা সাংবাদিক। যা রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিপিবদ্ধ আছে। আমি কবরস্থানের জায়গা দখল করতে চাচ্ছি – এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

*গত উপজেলা নির্বাচনই প্রমাণ*
মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, “গত উপজেলা নির্বাচনে আমি রাজস্থলী থেকে অংশগ্রহণ করেছি। যদি আমার নামে ধর্ষণ বা জাল টাকার মামলা থাকতো তাহলে নির্বাচন কমিশন আমার মনোনয়নপত্রই গ্রহণ করতো না। নির্বাচন কমিশনের কঠোর ভেরিফিকেশনে মামলা থাকলে মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়।”

*প্রিন্সের মিথ্যা অভিযোগের রেকর্ড*
মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, “প্রিন্স নিজেই বিভিন্ন জায়গায় আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রমাণ হয়েছে ওগুলো মিথ্যা ও ভুয়া। তাইতো সরকার বা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবারও একই কৌশল। সরকারি সম্পদ লোপাটের নিউজ প্রকাশের পর নিজেকে বাঁচাতে ভুয়া তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা ধর্ষণ ও জাল টাকার অভিযোগ এনেছে।”

*২০০১ সালের মামলার ইতিহাস*
মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, “বিগত ২০০১ সালের আগে মিজান গং আমাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা করেছিল। উক্ত মামলার কারণে আমাদের পরিবারের অনেকেই আমরা প্রায় ২০/২৫ বছর এলাকার বাইরে ছিলাম। ওই সুযোগে মিজানুর রহমান প্রিন্স গংরা আমাদের সম্পত্তি বিভিন্ন লোকের নিকট বিক্রি করে দেয়।”

তিনি বলেন, “উক্ত সম্পত্তি আমরা ২০২০/২১ সালে বাড়িতে গেলে মিজান গং কর্তৃক বিক্রি কৃত একটি জায়গা আমাদের দখলে নিয়ে বাড়ি করি। আরেকটি জায়গা যা মোশারফের নিকট বিক্রি করেছিল, উক্ত জায়গা আদালতে বিচারাধীন। যে জায়গায় ঘর তুলেছি উক্ত জায়গা নিয়ে থানা কর্তৃক একটি মামলা কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছিল, রায় আমাদের পক্ষে এসেছিল।”

*১৪ লাখ টাকার গাছ ৭ লাখে বিক্রি – অবৈধ*
কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম মিজানুর রহমান প্রিন্স ৭ মে ২০২৬ তারিখে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া দরখাস্তে স্বীকার করেছেন, ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে কবরস্থান কমিটি ও মসজিদ কমিটির উপস্থিতিতে কবরস্থানের বাগানের গাছ, জ্বালানি কাঠ ও বাঁশ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। পরে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় দর বেড়ে ৭ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৪ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ ৭ লাখে বিক্রি করা হয়েছে। সরকারি সম্পদ বিক্রিতে প্রকাশ্য টেন্ডার ডাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখানে কোনো টেন্ডার ডাকা হয়নি। ৭ লাখ টাকার হিসাব বা ভাউচারও প্রকাশ করা হয়নি।

*আইনি পদক্ষেপ*
মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা জানান, স্থানীয় প্রশাসন আইনি কি ব্যবস্থা নেয় তা দেখে পরবর্তীতে আমরা আমাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রয়োজনে আমাদের সোসাইটিকে বাদী করে দুদুকে অভিযোগ এবং আদালতে মামলা দায়ের করব।