চট্টগ্রামে ভয়ংকর‘জেল বাণিজ্য’সিন্ডিকেট: টাকা দিলে মুক্তি, না দিলেই‘শোন অ্যারেস্ট!

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-রুপান্তর বাংলা
চট্টগ্রামের আদালত ও কারাগার ঘিরে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ও ভয়ংকর ‘বাণিজ্য সিন্ডিকেট’। অভিযোগ উঠেছে, চব্বিশের পটপরিবর্তনের পর কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে এই সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চালাচ্ছে। সূত্র বলছে, টাকা দিতে পারলে মিলছে মুক্তি, আর চাহিদা মতো টাকা না দিলেই কপালে জুটছে একের পর এক নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’। এই অমানবিক ও বেআইনি বাণিজ্যে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সিন্ডিকেটের কার্যপদ্ধতি: অভিযোগ অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটে কিছু প্রভাবশালী দালাল, নামধারী রাজনৈতিক নেতা এবং অসাধু ব্যক্তি জড়িত। তারা কারাবন্দী নেতাকর্মীদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে মুক্তির প্রলোভন দেখায়। যদি পরিবার মোটা অংকের টাকা দিতে রাজি হয়, তবে আইনি প্রক্রিয়া শিথিল করে তাদের জামিনের পথ প্রশস্ত করা হয়। কিন্তু টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে বা চাহিদামতো অর্থ না দিলে, জামিন হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে অন্য কোনো মামলায় তাদের ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে পুনরায় আটকে রাখা হচ্ছে। ‘শোন অ্যারেস্ট’ যখন দাবার ঘুঁটি: মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ‘শোন অ্যারেস্ট’ বা পুনঃগ্রেফতার করার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে একটি বাণিজ্যিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। কোনো একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর জেলগেট থেকে বের হওয়ার আগেই নতুন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার এই সংস্কৃতি কেবল আইন বহির্ভূত নয়, এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, “এখন বিচার হয় টাকার জোরে। টাকা দিলে অপরাধীও পার পেয়ে যাচ্ছে, আর টাকা না দিলে নির্দোষ হলেও মাসের পর মাস জেল খাটতে হচ্ছে।” দেখার কেউ নেই, উত্তাল জনমন: চট্টগ্রামে এই জেল বাণিজ্যের কথা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বিপ্লব হয়েছিল বৈষম্য দূর করার জন্য এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু বিচার ব্যবস্থাকে পুঁজি করে যারা এই বাণিজ্য চালাচ্ছে, তারা মূলত বিপ্লবের চেতনাকেই ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা: এই পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের অনেক আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষ বলছেন, “ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আজ যারা অসহায় মানুষের পকেট কাটছে এবং বিচার নিয়ে বাণিজ্য করছে, তাদের মনে রাখা উচিত—এসব অন্যায়ের বিচার এই বাংলার মাটিতেই একদিন হবে। দিন বদলে গেলে পরিস্থিতিও বিপরীত হবে।” উপসংহার: চট্টগ্রামের এই বিচারিক অরাজকতা ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের অবসান না হলে সাধারণ মানুষের আইনি ব্যবস্থার ওপর থেকে বিশ্বাস পুরোপুরি উঠে যাবে। অবিলম্বে এই ভয়ংকর সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন সমাজ।জেএসকেপি