ফলোআপ -মুক্তাগাছায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতি করে ২৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, থানায় মামলা

সিরাজুল হক সরকার, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ছালড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ছত্তারের ছেলে এ.এস.এম গোলাম মোর্শেদ সাঈদের বিরুদ্ধে ট্রাস্ট ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক থেকে ২৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার ভাতিজা আবু নাহিদ হত্যা চেষ্টার অভিযোগে ময়মনসিংহ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গোলাম মোর্শেদ সাঈদ সাবেক প্রতিমন্ত্রী কে.এম. খালেদের প্রভাব খাটিয়ে তার সহযোগিতায় ভুয়া খামারি ও জাল দলিল দেখিয়ে ট্রাস্ট ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক থেকে ২৭ কোটি টাকা ঋণ নেন। পরবর্তীতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণখেলাপির কারণে জমিতে বোর্ড টানিয়ে দিলে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগী আবু নাহিদ বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলা নং- ৪১৪/২০২৬। ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৪৭/৪০৬/৪২০/৪৬৮/৫০৬/৩৪ দণ্ডবিধি। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোলাম মোর্শেদ সাঈদের বিরুদ্ধে আরও ২টি মামলা আদালতে বিচারাধীন।
মামলা নং- ৪২০/২০২৫, ধারা- ৪০৬, ৪২০, ৪৬৮, ৫০৬(২) অভিযোগে বলা হয়, তিনি মুক্তাগাছার ছালুয়া মৌজার ৪.৭৫ একর জমি ভুয়া খারিজ ও দলিল দেখিয়ে ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেন। বিষয়টি ধরা পড়লে শেখ সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলা নং- ১২৩৬/২০২৪ অভিযোগে বলা হয়, তিনি শালুয়া এ.বি. মজুমদার চিটাগং সিলভার প্লাস ফিল্মস লিমিটেডের ৪ জন মালিকের স্বাক্ষর জাল করে আর্টিফিসিয়াল মেমোরিয়াল তৈরি করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন।

এছাড়া মামলা নং- ০২৭০/২০১৪ তে ছালুয়া গ্রামের মৃত নবাব আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিনের জমি জবরদখলের অভিযোগে গোলাম মোর্শেদ সাঈদের বিরুদ্ধে রায় হয়। আদালত তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও পুলিশ এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ বিষয়ে শিক্ষা শ্রম বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটির চেয়ারম্যান বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংক জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত এবং সাধারণ মানুষের জমি দখল অত্যন্ত নিন্দনীয়। আইনের চোখে সবাই সমান। অবিলম্বে আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে মানুষের ব্যাংক ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা থাকবে না।”

ভুক্তভোগী আবু নাহিদ ও তার মা আফরুজা নাহার ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের পরিবারের জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।