মসজিদে জমি না দেওয়ায় একঘরে কৃষক পরিবার

ময়মনসিংহের আঞ্চলিক প্রতিনিধি; জিল্লুর রহমান মন্ডল

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মসজিদের জন্য জমি না দেওয়ায় কৃষক মো. আইয়ুব আলী ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে ‘একঘরে’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। একমাস ধরে তাঁদের সঙ্গে সমাজের লোকজন কথা বলছেন না এবং বাড়িতে যাতায়াতও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। একই সঙ্গে ফসল নিয়ে যাওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আইয়ুব আলী। উপজেলার নরকোনা গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী প্রায় ২৫ বছর ধরে সেখানে বসবাস করে কৃষিকাজ করে আসছেন। বড় মেয়ের বিয়ের পর বর্তমানে স্ত্রী হাসিনা খাতুন ও সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে রায়হান আলীকে নিয়ে তাঁর সংসার। সম্প্রতি বাড়ির পাশে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় সমাজের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়।
আইয়ুব আলীর অভিযোগ, জমিটি মসজিদের জন্য কেনার বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে চাপ দেন। তবে তিনি আগের মালিক পারভীন আক্তারের কাছ থেকে বৈধভাবে জমিটি কেনেন। পরে সামাজিক বৈঠকের মাধ্যমে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বয়কট করের একঘরে করা হয়। এরপর থেকে কেউ তাঁদের সঙ্গে কথা বলছেন না। কেউ কথা বললে তাকেও একঘরে করা হুমকি দেয়া হয়। আত্মীয় স্বজন এলে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয় এবং তাঁর উৎপাদিত ফসলি জমিতে চাষ করতে বাঁধা প্রয়োগ সেই সাথে মব তৈরি করে ফসল নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আইয়ুব আলীর স্ত্রী হাসিনা খাতুন বলেন, মসজিদের পর রাস্তা তারপর আমার বাড়ী এরপরে সেই জমিটি। আমরা বৈধভাবে জমি কিনেছি। পরে জানতে পারি মসজিদের জন্য জমি দিয়ে দিতে হবে। আমরা রাজি না হলে আমাদের একঘরে করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী কেউ কথা বলে না, বাড়িতে আসে না। প্রতিদিন প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।
স্থানীয় নরকোনা মধ্যপাড়া বাইতুল নূর জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ তাহেরসহ সমাজের কয়েকজন সদস্যের দাবি, মসজিদের জন্য জমি কেনাকে কেন্দ্র করেই সামাজিক বৈঠক হয়েছিল। তাঁদের ভাষ্য, বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়; মসজিদ ও সমাজের স্বার্থে জমি নিয়ে আলোচনার মধ্য থেকেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমাজের সবার সিদ্ধান্তে আইয়ুব আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের একঘরে করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আইয়ুব আলীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করেছে। বাড়ির পাশের জমি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর পরিবারের বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে এবং একপর্যায়ে সামাজিকভাবে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।