সংবাদ শিরোনাম

চট্টগ্রামে পাহাড়তলী থানা পুলিশের ভয়ংকর কাণ্ড! প্রকাশ্যে পিটিয়ে যুবককে গুম, ৭ দিন পর মানসিক রোগী বানিয়ে ফেরত

প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ২৭ অক্টোবর—চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী গরুর বাজারের সামনে থেকে নিশান (২০) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে লাথি, গুতা, চড়-থাপ্পড় মেরে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাহাড়তলী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, নিশান গত ১৩ অক্টোবর রাতে বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়। তার সাথে মোবাইল না থাকায় পরিবার ভেবেছিল সে দাদা-দাদির বাড়িতে গেছে।

কিন্তু ১৪ অক্টোবর বিকালে পাহাড়তলী গরুর বাজারের সামনে থেকে পাহাড়তলী থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

পরিবার ৩ দিন তার কোনো খোঁজ পায়নি। ৩ দিন পর গরুর বাজারের লোকজন তার অসহায় মাকে বলেন তোমার ছেলেকে পুলিশ ইচ্ছামতো পিটাইয়া ধরে নিয়ে গেছে”।

এরপর থানায় লেক মারফত যোগাযোগ করলে ডিউটি অফিসার জানান, নিশানকে ৮৮ ধারায় চালান দেওয়া হয়েছে, জরিমানার টাকা দিয়ে আনতে হবে অথবা এক সপ্তাহ পর সে চলে আসবে। ছেলের মা নিজেও থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হন যে, ১৪ তারিখে তার ছেলেকে অ্যারেস্ট করে জেলে পাঠানো হয়েছে।

৭ দিন পর ২১ অক্টোবর নিশান জেল থেকে বাসায় ফিরে তার মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে বলে — “লকআপে রেখে ভয় দেখানো হয়েছে, বলেছে ভাঙচুর মামলা দেব, অস্ত্র মামলা দেব। আমাকে পুলিশ অনেক পিটিয়েছে। আমি আমার মা-বাবার পরিচয় দিছি, তারপরও পুলিশ গার্ডিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নাই।”

বর্তমানে নিশান মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছে। সে একেক সময় একেক কথা বলছে — “ওখানে বাঘ দেখা যায়, সাদা পাখি আছে, জেলখানার দালানের উপর দিয়ে চলে আসছি।” কিছুক্ষণ পর আবার সে একদম স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে।

পরিবারটি অত্যন্ত গরীব। নিশানের খোঁজখবর নিতে গিয়ে তার মা পাগলের মতো ছোটাছুটি করতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে হাত ভেঙে ফেলেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী নিশানের বোন, তিনি একটি গার্মেন্টসে ১২-১৪ হাজার টাকায় চাকরি করেন। সেই টাকায় সংসার চলে। ছেলের CT Scan করার টাকাও তাদের হাতে নেই, তাই বাধ্য হয়ে হুজুরের ফু ও পানি পড়া খাওয়াচ্ছেন।

এ বিষয়ে নিশানের মা বলেন, “আমার ছেলের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য পুলিশের বিরুদ্ধে দেশ ও দেশের জনগণের নিকট বিচার দিচ্ছি। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। আমার ছেলেকে যেভাবে মারা হয়েছে, তা যেন আর কোনো মায়ের সন্তানের সাথে না ঘটে। আমি একজন মা, আমি অভিশাপ দিচ্ছি যেসব পুলিশ আমার ছেলের উপর নির্যাতন করেছে তারা যেন ধ্বংস হয়ে যায়। হে আল্লাহ, তুমি বিচার করিও।”

এ ঘটনায় জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং IGP মহোদয় ও CMP কমিশনারের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও সরকারি খরচে ছেলেটির চিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি।