যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

রুপান্তর বাংলা নিজস্ব প্রতিনিধি—- রাঙ্গামাটি জেলা যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে, জানা যায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের বনরূপা এলাকার আয়োজন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী হাজি শামসুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে হাজি শামসুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রিজার্ভ বাজারের পুরান পাড়া এলাকায় অবস্থিত তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি বৈধভাবে তাঁদের দখলে রয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি, যারা নিজেদের বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন, প্রকাশ্যে বাঁশ, কাঠ ও টিন এনে সেখানে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে জমির উদ্দিন (৫৫), এমদাদ হোসেন মানিক, মো. রুবেল, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. ফজলু রহমান, রাজু আহম্মদ খোকন, মো. সোহাগ, কামাল উদ্দিন ও জয়নাল উদ্দিনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে সতর্ক করলেও অভিযুক্তরা পুনরায় দখল কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। বিষয়টি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকেও অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি এমদাদ হোসেন মানিক ও জেলা যুবদলের সদস্য নেজাম উদ্দিন বলেন, তাঁরা পুরানবস্তী শাপলা যুব কল্যাণ সংঘ ক্লাবের সভাপতি ও সেক্রেটারি হিসেবে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আপোষ-মীমাংসার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, জমি দখলের সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন। বরং এলাকায় গেলে প্রকৃত পরিস্থিতি জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন।
বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের কে ইতিপূর্বে শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা নির্দেশ দিয়েছিলেন কোন ঘটনা নিয়ে আপোষ মীমাংসার উদ্দেশ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দেন দরবার করতে পারবে না, তাদেরকে কি বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা অনুমতি/ নির্দেশ দিয়েছে দেন দরবার, সালিশ ও মীমাংসা করার জন্য- অভিযোগ করলেন ভুক্তভোগী।
এদিকে, ঘটনাস্থলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদেরও সরাসরি হুমকি সহ এই বিষয়ে নিউজ করলে প্রাণ নাশের হুমকি ও দেয় অভিযুক্তরা। বিষয়টিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেলার কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। আলোচনা করে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে–জেএসকেপি