সাংবাদিকের নিউজের পর ঘর-জমি দখল, মারধর, ছবি দিয়ে মানবন্ধন বিভিন্ন সংগঠনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি—রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক ও তার পরিবারের উপর ধারাবাহিক জুলুম, ঘর-জমি দখল, মারধর ও মানহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।

সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, “সত্য প্রকাশ করাই যদি কোনো সাংবাদিকের অপরাধ হয়, তাহলে সেই দেশে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে।”

জানা যায়, রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের শফিপুর এলাকায় “টেন্ডারবিহীন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের সফিপুর সরকারি কবরস্থানের গাছ ৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি” এবং “একটি মসজিদের ৩-৪টি নাম ব্যবহার করে সরকারি-বেসরকারি অনুদান আত্মসাৎ” বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন রানা।

উক্ত নিউজ প্রকাশের পরপরই সাংবাদিকের পরিবারের উপর নেমে আসে নির্যাতন।
জমি ও ঘর দখল: অভিযুক্ত মিজানুর রহমান প্রিন্স ও তার ২০-৩০জন সহযোগী সাংবাদিকের পরিবারের ১ একর জমি ও বসতবাড়ি জোরপূর্বক দখল করে নেয়।
সাংবাদিকের ভাই ও ভাইজিকে ইচ্ছামতো মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। মেডিকেল রিপোর্ট ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে সংরক্ষিত আছে।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬/০৪/২০২৬ তারিখ শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর অভিযুক্তরা সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন রানা ও তার ভাইয়ের ছবি ব্যানারে ব্যবহার করে রাজস্থলীর শফিপুর মসজিদের সামনে মানবন্ধন করে। ব্যানারে তাদের “আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সহোদর, জমিদখলদার” হিসেবে উল্লেখ করে জনসম্মুখে মানহানি করা হয়।

সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন রানা বলেন, “সত্য নিউজ করাই আমার অপরাধ হয়েছে। আমার পরিবার আজ ঘরছাড়া, ইজ্জতহারা। অভিযুক্তরা উল্টো মানবন্ধন করে আমাদের সামাজিকভাবে হত্যা করতে চায়। আমি রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মহোদয়, পুলিশ সুপার মহোদয় ও রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহোদয়ের কাছে আমার ও আমার পরিবারের জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা এবং জালিমদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।”

সংগঠনগুলো জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (জেএসকেপি) বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, (বিওজেএ)
বাংলাদেশ এডিটরস ক্লাব,শ্যামপুর প্রেস ক্লাব, যাত্রাবাড়ী প্রেসক্লাব, জুরাইন প্রেসক্লাব, কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব, তারাকান্দা প্রেসক্লাব, মুক্তাগাছা প্রেস ক্লাব হালুয়াঘাট প্রেস ক্লাব, শিক্ষা শ্রম বন ও পরিবেশ রক্ষা সোসাইটি, বাংলাদেশ ক্রেতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ফাউন্ডেশন, সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা – সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদ, ফেডারেশন অফ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশন (এফবিজিও) সহ অনেকেই
প্রতিবাদী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রাজস্থলী উপজেলা,চন্দ্রঘোনা থানা প্রশাসন সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোন কমান্ডারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। একই সাথে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিক পরিবারের দখলকৃত জমি-বাড়ি উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “সাংবাদিকের উপর হামলা মানে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের উপর হামলা। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।”