বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় আগৈলঝাড়ায় থানায় হামলার অভিযোগ আহত ১০ পুলিশ। “এভাবে নির্যাতন হলে সেবা দেব কিভাবে” – ওসি`

রুপান্তর বাংলা বরিশাল জেলা সংবাদদাতা–বরিশালে মাদক মামলার আসামির মৃত্যুর গুজবে বিক্ষুব্ধরা হামলা চালায়। সাধারণ মানুষ বলছে সরকার দায় এড়াতে পারে না তারা বলেন সরকার দলের কয়েকজন লোকের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে

বরিশালে মাদক মামলার এক আসামি পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার পর একদল বিক্ষুব্ধ লোক থানায় ঢুকে হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিয়াজ ফকির নামের মাদক মামলার এক আসামির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তারা থানায় ঢুকে ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালায়।

ঘটনার পর থানার ওসি মো. মাসুদ খান সাংবাদিকদের কাছে বিচার দাবি করে বলেন, ‘থানায় ঢুকে এভাবে কেউ নির্যাতন করে, আমরা কার কাছে যাব। পাবলিক দেখেছে, সাংবাদিক দেখেছে—একটা যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, একটা যদি ভুল তথ্য পায়, এই পোশাক খুলে ফেলব। এই পোশাক রাখব না। এই দেখেন কিভাবে একটা থানায় ঢুকে এভাবে কেউ নির্যাতন করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে যদি আমরা প্রতি কাজে বাধা পাই, তাহলে আমরা তো সামাল দিতে পারব না। সঠিক কাজটা করতে পারব না। আজকে মাদক কারবারি, চোরদের জন্য আমাদের দেশের এ অবস্থা। কোথায় যাব আমরা? থানার মধ্যে ঢুকে নির্মমভাবে এতগুলা মানুষকে মারল। যে পুলিশ সেবা দেবে আজকে তারাই বিচারের জন্য দাঁড়িয়ে।’

এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের উপর এভাবে হামলা হলে জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এ ধরনের ঘটনার জন্য সরকার দায় এড়াতে পারে না। সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।