দীঘিনালায় পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সুধী সমাবেশ

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা –মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ ও যুবসমাজকে রক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দীঘিনালা থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচির শুরুতে দীঘিনালা থানার সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
র‌্যালি শেষে দীঘিনালা থানা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী।
বক্তব্যে ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকবিরোধী অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পাশাপাশি চালিয়ে যেতে হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে প্রশাসন, পুলিশ ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাদকমুক্ত দীঘিনালা গড়তে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারের নজরদারি এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দীঘিনালা থানা পুলিশের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তারা মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সামাজিকভাবে মাদককে প্রতিহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সুধী সমাবেশের মধ্য দিয়ে পুলিশ, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে মাদকমুক্ত দীঘিনালা গড়ার ইতিবাচক বার্তা উঠে আসে।