রূপান্তর বাংলা বিশেষ প্রতিনিধি—-বান্দরবানের লামা উপজেলার বাসিন্দা উথোয়াইংগ্য মারমা নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে পাহাড়ের ২৬০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর থাকা, খাওয়া ও শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে লামা সদর বৌদ্ধ বিহারের পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় মাত্র ৯ জন শিশুকে নিয়ে তিনি একটি হোস্টেল চালু করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সালে কলাঝিরি দুর্গম এলাকায় আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সেটিও টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে তিনি লামা উপজেলা সদরে নিজ বাড়ির পাশে রংখ্রেদঃ শিশু সদন নামে একটি আবাসিক বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। সেখানে প্রায় ১২০ জন শিশু থাকছে। এছাড়া আলীকদম উপজেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী একটি ম্রো গ্রামে প্রেইন্নই শিক্ষালয় নামে আরেকটি আবাসিক বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন, সেখানে প্রায় ১৪০ জন ম্রো শিশু রয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ২৬০ জন শিশুর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে তার উদ্যোগের সঙ্গে।
শুরুতে একজন আমেরিকা প্রবাসী ব্যক্তি সহযোগিতা করলেও পরে সেই সহায়তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনি বান্দরবান জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করেন। পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে নিজের পৈতৃক সম্পত্তির একটি অংশ বিক্রি করে শিশুদের খরচ চালাতে হয়েছে তাকে।
এই বিষয়ে পার্বত্য নাগরিক অধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, “উথোয়াইংগ্য মারমার এই ত্যাগ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য গর্বের। নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে ২৬০ জন পাহাড়ি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়। আমরা পার্বত্য নাগরিক অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে তার এই মহতী উদ্যোগের পাশে আছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই, এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হোক।”
সরেজমিনে দেখা যায়, রংখ্রেদঃ শিশু সদনের অবকাঠামো অত্যন্ত শোচনীয়। টিনের বেড়া দিয়ে তৈরি ঘরে শিশুদের থাকতে হচ্ছে। সীমিত বাজেটের কারণে সপ্তাহে একদিন মাছ বা মাংস এবং একদিন ডিম দেওয়া হয়, বাকি দিন শাকসবজি দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও এই শিশু সদন থেকে এবছর একজন ম্রো শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
