রুপান্তর বাংলা নিজস্ব প্রতিবেদক–খাগড়াছড়ির পানছড়ি সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার চক্রের আরও তিন সদস্যের সন্ধান পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস (সন্তু গ্রুপের) শীর্ষ কমান্ডার সমাজ প্রিয় চাকমার সরাসরি নির্দেশে এরা মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে সংগঠনটির গোপন অস্ত্রভাণ্ডারে সরবরাহ করে আসছিল বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গতকাল পানছড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সুবিধা দিতে জেএসএস সন্তু গ্রুপের পক্ষ থেকে ১০০ রাউন্ড গুলি ও একটি একে-৪৭ অস্ত্র উপহার দেওয়ার একটি খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত রূপেল চাকমা ওরফে সুমেন্তু নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করলেও অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি পিনন-হাদির ব্যবসার আড়ালে মূলত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচারের মতো অপরাধমূলক কার্যক্রমে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে এই চক্রের মূল তিন সদস্য একত্রে বিভিন্ন এলাকায় বিচরণ করে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে চিহ্নিত তিন সদস্যের মধ্যে রয়েছেন মিঠুন চাকমা ওরফে রাজু, রূপেল চাকমা ওরফে সুমেন্তু এবং সঞ্জয় চাকমা। তাদের বাড়ি পানছড়ি ও দীঘিনালা এলাকায়। এদের মধ্যে কেউ কেউ ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দুই দেশে যাতায়াত করেন বলে তথ্য রয়েছে।
অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পানছড়ির দুদুকছড়া এলাকার ব্যবসায়ী লাব্রে মারমার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় তিনি ত্রিপুরায় আটক হয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন। তার বিরুদ্ধে ত্রিপুরা রাজ্যের নতুন বাজার থানায় একাধিক ডাকাতি, চুরি ও হামলার মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে সমাজ প্রিয় চাকমার মাধ্যমে মিঠুন চাকমার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকেই তারা পুনরায় সীমান্ত এলাকায় যৌথভাবে এই অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
