মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সীমান্ত জুড়ে আরো নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি

মিয়ানমারের ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের নেত্রী অং সান সু চি ও দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট’কে দেশটির সামরিক বাহিনী সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে আটক করা ও মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনার পর বান্দরবানের মিয়ানমার সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি।
প্রতিবেদককে সোমবার সন্ধ্যায় ফোনে একথা জানান, কক্সবাজার বিজিবি’র ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার। তিনি জানান, সীমান্তে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে দৃষ্টি রেখে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তর চৌকিগুলোতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের ঘটনার পর সোমবার সকাল থেকে মিয়ানমার-বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরতদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে, অনেকে এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। ফলে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তুমব্রু, ঘুমধুম, চাকঢালা, আশারতলী সীমান্ত জুড়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সর্তক অবস্থানে রয়েছে।
মূলত গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে বেসরকারি সরকার এনএলডি ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। নির্বাচনে সু চি’র দল ৩৬৪টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) প্রতারণা ও ভোট কারচুপির অভিযোগ করে আসছে শুরু থেকেই। বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনী ও এনএলডি’র মধ্যে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরি ধারাবাহিকতায় মিয়ানমারে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করে ক্ষমতা গ্রহন করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার সকালে ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান অং সান সুচি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজনকে আটকের পর পরই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এরপর পরেই সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বান্দরবান সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বিজিবি।
এই ব্যাপারে কক্সবাজার বিজিবি’র ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার বলেন, এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরিন বিষয়, আমাদের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে, তারপরও যেহেতু একটি ঘটনা ঘটেছে সেজন্য আমরা সতর্ক আছি।