ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া বালিয়ান ইউনিয়নে উপ-নির্বাচন; স্বামীর জনপ্রিয়তাই শামীমা খাতুনকে জয়ী হতে সহায়ক হতে পারে

ময়মনসিংহ থেকে সিরাজুল হক সরকার: ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৪নং বালিয়ান ইউনিয়নে উপ-নির্বাচন আগামী ২০ অক্টোবর/২০২০ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ইউনিয়নের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুজ্জামান সরকার এর অকাল মৃত্যুতে এ শূণ্য পদে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। গত৮ আগষ্ট ইউনিয়ন চেয়াম্যান আশরাফুজ্জামান সরকার আকষ্মিক জরে ইন্তেকাল করেন।

এ পদটি শূণ্য হওয়ায় নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচন ঘোষণা করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর/২০ নমিনেশন দাখিলের শেষ তারিখ ছিল। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ,বিএনপি, জাসদ ও সতন্ত্র একাধিক প্রার্থীসহ মোট ৮ জন নমিনেশন দাখিল করেন। পরবর্তীতে নাসির উদ্দিন ও জহিরুল ইসলাম নামে ২ জন প্রার্থী তাদের নমিনেশন প্রত্যাহার করে নেন। সর্বশেষ ৬ জনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতাকরছেন।

ফুলবাড়ীয় উপজেলার ৪নং বালিয়ান ইউনিয়নে ১০ টি ভোট কেন্দ্র। মোট ভোটার সংখ্যা ২৭৪০৪ জন, তারমধ্যে মহিলা ভোটার সংখ্যা ১৩৪৬৪ এবং পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১৩৯৪০ জন। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যানার, পোষ্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিলে ছেয়ে গেছে ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট বাজার, মহল্লা,গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ নির্বাচনী ক্যাম্পগুলো।

প্রতিদিনই প্রার্থীর পক্ষে দিবারাত্রি ডোল, মিছিল ও গান গেয়ে প্রচার প্রচারণার উৎসবে মেতে উঠেছে ইউনিয়নের সর্বত্র প্রার্থীদের সমর্থকরা। প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামীলীগ প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মফিজ উদ্দিন মন্ডল নৌকা প্রতীক, বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান পলাশ ধানের শীষ প্রতীক, জাসদ প্রার্থী আল-আমীন জুয়েল মশাল প্রতীক, সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যারা আছেন তাদের মধ্যে সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মরহুম আশরাফুজ্জামান সরকারের পত্নী শামীমা খাতুন আনারস প্রতীক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মুসা মন্ডল ঘোড়া প্রতীক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শফিকুল আলম শফিক চশমা প্রতীক নিয়ে মাঠে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

সরেজমিনে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা ও তাদের স্বপক্ষের ভোট ব্যাংকের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে মূলত লড়াই হবে ত্রিমূখী বলে বিভিন্ন সূত্রে ও ভোটারদের আলোচনায় বেড়িয়ে আসে। সূত্র মতে, আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে দলীয় ইমেজ ধরে রাখতে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে দলকে শক্তি শালী করতে দলীয় লোকজন প্রার্র্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে তাদের দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হন। এজন্য উপজেলা পর্যায় থেকে নেতৃবৃন্দ এসেও প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে প্রার্থীর পক্ষে জনসংযোগ করছেন।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান পলাশ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল-বিকালসহ গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন শত শত লোক তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। উপজেলা ও জেলা র্যায় থেকে নেতৃবৃন্দ এসে তার পক্ষে জনসংযোগ করছেন। এ ব্যাপারে মুঠো ফোনে বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান পলাশের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভাল আছে। তিনি জানান, ৫টি ভোট কেন্দ্রে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশা করেন। সঠিক নির্বাচন ও সঠিক ফলাফল হলে তিনি ৯৫ ভাগ নিশ্চিত বিজয়ী হবেন বলে আশা ব্যাক্ত করেছেন।

জাসদ প্রার্থী আল-আমীন জুয়েল দলীয় মশাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আছেন। বিভিন্ন হাট বাজারে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মশাল প্রতিকের পোষ্টার লিফলেট থাকলেও জনসংযোগ করে যাচ্ছেন।সতন্ত্র প্রার্থী সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মরহুম আশরাফুজ্জামান সরকারের পত্নী শামীমা খাতুন আনারস প্রতীক নিয়ে মাঠে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন।স্থানীয়ভাবে দলমত নির্বিশেষে তার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক ভোটার। সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রতি এলাকার মানুষ সন্তুষ্ট ছিলেন।

তার মৃতুতে এলাকাবাসী তার পত্নী শামীমা খাতুনকে তার শূণ্য আসনে বসিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সর্বস্তরের জনগণ তাকে জয়ী করার জন্য মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকায় ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, আশরাফুজ্জামান সরকার চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন সেই জনপ্রিয়তাই তার পত্নী শামীমা খাতুনকে জয়ের পক্ষে পৌছে দেয়ার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অনেক ভোটারই জানান, যদি আশরাফুজ্জামান চেয়ারম্যান বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনিই তো এ মেয়াদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ভোট হওয়ার প্রশ্ন থাকত না।

সে প্রেক্ষিতে এই সময়ে বাকী সময়ের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার একমাত্র হকদার চেয়ারম্যান পত্নী শামীমা খাতুনেরই। সেই লক্ষেই তারা শামীমা খাতুনের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে শামীমা খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার স্বামী খুবই জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন। তিনি সাধারণ মানুষ, গরিব, হতদরিদ্রদের জন্য কাজ করে গেছেন। যার দরুন সাধারণ মানুষগুলো তার অসমাপ্ত কাজগুলো করার জন্য আমার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। তার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করছি।

যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে তিনি জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে আশা করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মুসা মন্ডল ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুসা মন্ডলের বিভিন্ন ব্যানার, পোষ্টার লক্ষ্য করা যায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মুসা মন্ডলের সাথে কথা বলতে তার মুঠো ফোনে চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। তবে শোনা যায় তিনি বিভিন্ন ধরনের পথসভা ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শফিকুল আলম শফিক চশমা প্রতীক নিয়ে মাঠে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। শফিকুল আলম শফিক আওয়ামী পরিবারের সন্তান।

তিনি ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে মুক্তাগাছা শহীদ স্মৃতি সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের নেতা ছিলেন। তাছাড়া আওয়ামীলীগের বিভিন্ন লড়াই ও সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে দেশের জন্য কাজ করেন। আওয়ামীলীগের দলীয় নির্বাচন না করে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তিনি আশা করেন, জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দিবেন।