রাজস্থলী থেকে আব্দুর রাজ্জাক—দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূল থেকে উঠে এসে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন রাজস্থলীর ছাত্রনেতা নাইমুল ইসলাম রনি।
গত ২ মে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মোঃ অলি আহাদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাইমুল ইসলাম রনির নাম ঘোষণা করা হয়।
রনির এই সাফল্যে রাজস্থলী উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা ছাত্রদলসহ বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
২০০৯ সালে একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে ছাত্রদলের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় রনির। নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে তিনি রাজস্থলী সদর গাইন্দ্যা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২২ সালে আহ্বায়কের দায়িত্ব পান তিনি।
রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় রনি ২০১৩ সালে পিকেটিং মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণও করেন। তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে এসে তিনি জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে জায়গা করে নেন।
রনির পিতা মরহুম মোঃ সেলিম ছিলেন রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। পরপর তিনবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। পিতার আদর্শ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বুকে ধারণ করে রনিও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়া ও শিক্ষা ক্ষেত্রেও রনির রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অসহায় শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ইতিমধ্যেই অর্জন করেছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। বিপদে-আপদে নেতাকর্মীদের পাশে থাকায় রাজস্থলীতে তিনি পরিচিত কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে।
দায়িত্ব পাওয়ার পর অনুভূতি ব্যক্ত করে নাইমুল ইসলাম রনি বলেন, সাবেক সেনাপ্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ নেতৃত্বদানকারী আপসহীন নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্নের সোনার বাংলা, রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমানের টেক ব্যাক বাংলাদেশ, গরিব দুখী ও অসহায় মানুষদের শেষ আশ্রয়স্থল হল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, আমি সেই দলের একজন নগণ্য কর্মী হয়ে আমার বাকিটা জীবন কাটিয়ে দিতে চাই, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই।
“আমার সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। রাজস্থলী উপজেলা ও জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকেও ধন্যবাদ জানাই। আমাকে যে গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। রাঙ্গামাটি জেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে একটি শিক্ষাবান্ধব ও ছাত্রবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে আমি এবং আমরা নিরলস কাজ করে যাবো। আমি সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
