কয়রা/খুলনা: তৌহিদুর রহমান শান্ত—-বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-০৬ এর ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের অংশ হিসেবে একাধিক বাহিনীর মোট ৫২ জন জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণকালে তারা বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলাবারুদ র্যাবের কাছে হস্তান্তর করে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
একসময় সুন্দরবনের জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও উপকূলীয় সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা জলদস্যুদের অত্যাচারে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। র্যাব-০৬ এর কঠোর অভিযান, কৌশলগত চাপ এবং একই সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বনদস্যুরা একের পর এক আত্মসমর্পণ করে। ৫২ জন জলদস্যুর এই সাম্প্রতিক আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম মাইলফলক।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের মূল বিষয়সমূহ:
স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন: উপকূলীয় অঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন বাহিনীর ৫২ জন সদস্য অপরাধজগৎ ত্যাগ করে সাধারণ ও শান্তির জীবনে ফেরার ঘোষণা দেন।
অস্ত্র ও গোলাবারুদ সমর্পণ: আত্মসমর্পণকালে জলদস্যুরা তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরণের দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজ ও গোলাবারুদ র্যাবের নিকট হস্তান্তর করে।
সরকারি পুনর্বাসন সহায়তা: আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক ও আইনি জীবনে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক, আইনি ও সামাজিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি বজায় রয়েছে।
নিরাপদ উপকূলীয় অর্থনীতি: সুন্দরবন দস্যুমুক্ত থাকায় স্থানীয় বাওয়ালি, মৌয়াল ও জেলেদের পেশাগত নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে, যা দেশীয় অর্থনীতিকে সুসংহত করছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের জলদস্যুতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে র্যাবের নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
