মুক্তাগাছা থেকে পাচারকৃত সার মধুপুরে পুলিশের হাতে আটক

ময়মনসিংহ থেকে সিরাজুল হক সরকার;
মুক্তাগাছা থেকে পাচারকৃত ৩৯৫ বস্তা সার মধুপুর থানা পুলিশের হাতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ধরা পড়ে। পুলিশ ট্রাক সহ সার জব্দ করে থানায় মামলা করে। ট্রাক ড্রাইভারকে আদালতে সোপর্দ করে।
সূত্র মতে, সার সহ ট্রাক আটকের পর ট্রাক ড্রাইভার সারের যে চালান দেখায় তাতে মুক্তাগাছার মা-বাবা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সার ডিলারের নাম দিয়ে মেমো করানো। উক্ত মেমোতে ৩ জনের স্বাক্ষর সম্বলিত ১২৭ বস্তা টিএসপি এবং ২৬৮ বস্তা এমওপি সার লেখা রয়েছে। মামলা হবার পর বিষয়টি নিয়ে মুক্তাগাছার কৃষি বিভাগের টনক নড়ে। কৃষি বিভাগ থেকে মুক্তাগাছার বিভিন্ন ডিলারের সারের স্টক যাচাই করা হয় বলে কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়। এ বিষয়ে মুক্তাগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিনমিন জাহান বলেন, মধুপুরে উদ্ধার করা ওই সারকে মুক্তাগাছার কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখেছি। ডিলারের গোডাউন দেখা হয়েছে। সবকছিুই ঠিকঠাক আছে। সেখানে যে চালান দেখানো হয়েছে। তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ফটোকপি কাগজটি জাল হিসেবে নিশ্চিত হয়েছি। এ ব্যাপারে আমাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণও তদন্ত করে গেছেন।
মধুপুর থানার ওসি (তদন্ত) আানোয়ার হোসেন জানান, এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আগেই কিছু বলা যাচ্ছে না। সারগুলো মুক্তাগাছার কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মকর্তা বলেন, আমি কেন বলবো এটা মুক্তাগাছার? সার পাওয়া গেছে, মামলা হয়েছে, তদন্ত এখনো শেষ হয় নাই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না এটা কার সার। মামলার এজাহারেও এমন কোন কথা নেই।
পুলিশ সারসহ ট্রাক আটক করেছে। ট্রাক ড্রাইভার যে চালান/মেমো দেখিয়েছে। তাতে মা-বাবা এন্টারপ্রাইজ লেখা রয়েছে। মেমোর ফটোকপি দেখা যায় ৬৪ বস্তা এমওপি সারের উল্লেখ রয়েছে। বাকী সার কোথা থেকে এলো? কৃষি বিভাগ বলছে, তাদের ডিলারদের স্টক মিল রয়েছে। মুক্তাগাছা থেকে কোন সার পাচার হয়নি তদন্তে দেখা গেছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তাহলে কোনটি সঠিক? বিষয়টি নিয়ে সাধারণ কৃষকের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলেছেন, কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নাই। বিষয়টি কি এ রকম। তাহলে সঠিক কোনটা?
এ ব্যাপারে উপজেলা ডিলারদের স্টক সরেজমিনে যাচাই করলে প্রকৃত সার পাচারের রহস্য উদঘাটিত হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।