কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: তৌহিদুর রহমান শান্ত—সুন্দরবন থেকে শিকার করা হরিণের মাংস ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিক্রির ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের আনারুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হরিণের মাথার ছবি পোস্ট করার পর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম কয়রা সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে আনারুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। ফোনালাপে তিনি প্রতি কেজি হরিণের মাংস ৭০০ টাকা দরে বিক্রির কথা জানান। সুন্দরবনে হরিণ শিকারের জন্য কয়েকজন লোক গেছেন এবং তাঁরা ফিরে এলে এক-দুই দিনের মধ্যে মাংস পাওয়া যেতে পারে বলেও তিনি জানান।
ফোনালাপে হরিণ শিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে আনারুল ইসলাম সুন্দরবনে হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দেন বলে জানা গেছে। হরিণশিকারি আনারুল ইসলামের সঙ্গে ছদ্মবেশী ক্রেতার কথোপকথনের অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছে কয়রা সাংবাদিক ফোরাম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শেখপাড়া এলাকায় আরও কয়েকজন ব্যক্তি সুন্দরবনে হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের দাবি, এর আগেও এলাকায় হরিণ শিকার ও মাংস বিক্রির অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিকারিরা আরও উৎসাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আনারুল ইসলাম প্রায় ৩০ বছর ধরে হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত। গত মাসে বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের ল্যাব সহকারী আয়ুব হোসেন ও তাঁর বাবা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আয়ুব হোসেন আন্তজেলা হরিণের মাংস বিক্রির চক্রের সক্রিয় সদস্য। কয়েক বছরে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি কোটি টাকা মূল্যের বাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বন বিভাগ বলছে, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী শিকার ও তা বিক্রির প্রচার গুরুতর অপরাধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে হরিণের ছবি পোস্ট এবং মাংস বিক্রির ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
কয়রার কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জার নাসির হোসেন বলেন, “হরিণ শিকার করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বন্যপ্রাণী রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, “হরিণ শিকারিদের কোনো ছাড় নেই। শিকারিদের ধরতে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। যারা অপরাধ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
সুন্দরবন নিয়ে কাজ করা সাংবাদিক শুভ্র শচীন বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করা জরুরি। হরিণ সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল ও প্রতিবেশব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বন্যপ্রাণীর মাংস বিক্রির প্রচার সুন্দরবনের জন্য উদ্বেগজনক।
স্থানীয়রা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরিণ শিকার ও মাংস বিক্রির প্রচার বন্ধের পাশাপাশি সুন্দরবনে সক্রিয় শিকারি চক্র শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
