ভাড়াটিয়া সন্ত্রসী দিয়ে হামলা মুক্তাগাছায় জাল দলিলে জমি দখলের পায়তারা

ময়মনসিংহ থেকে সিরাজুল হক সরকার: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার চরআধপাখিয়া মৌজায় জাল দলিলে জমি দখলের পায়তারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিরোধকৃত জমি নিয়ে ময়মনসিংহ জজ আদালতে মামলা চলমান কিন্তু এরই মধ্যে একটি চিহ্নিত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জমি দখলের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের চরআধপাখিয়া গ্রামের মৃত কুরবান আলীর পুত্র মোঃ জুলহাস। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মুক্তাগাছা প্রেসক্লাবে এসে লিখিতভাবে এ অভিযোগ জানান।

সূত্র মতে, কুরবান আলী, পিতা: মৃত আমানী শেখ ১৯৬৪ সালে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কামরুপ জেলার নলবাড়ি থানার বাসিন্দা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ সদর মহকুমার মুক্তাগাছা থানার বাসিন্দা শ্রী সুধীর চন্দ্র ভৌমিক, পিতা- মৃত মদন চন্দ্র ভৌমিক এর সাথে পৈত্রিক সম্পত্তি এক্সচেঞ্জ এফিডেভিট করেন। যার এফিডেভিট নং- ১৬১৪, তারিখ- ২১/০৭/১৯৬৪। এফিডেভিটে ১.৪৭ একর জমি উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে কুরবান আলী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের চর আধপাখিয়া মৌজার সুধীর চন্দ্র ভৌমিক এর সম্পত্তি বুঝে নেন এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কামরুপ জেলার নলবাড়ি থানার অন্তর্গত কুরবান আলীর সম্পত্তি সুধীর চন্দ্র বুঝে নেন। প্রত্যেকেই যার যার মতো এক্সচেঞ্জ মোতাবেক স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে বসবাস করে আসছেন। ১৯৮৫ সালে বিআরএস জরিপে কুরবান আলীর নামে তার জমি রেকর্ড হয় এবং জমির খাজনাদি পরিশোধ করে আসছেন। পরবর্তীতে উপজেলার তারাটি গ্রামের আহাম্মদ আলী একটি জালিয়াত চক্রের সহায়তায় ১৯৬৮ সালের লেখা একটি দলিল দেখায়, যাহা আদালত কর্তৃক জাল চিহ্নিত হয়। জানা যায়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নান্দাইল ভূমি অফিসে আগুনে পুড়ে কিছু দলিল পত্র পুড়ে যায় বিধায় দলিল সংক্রান্ত কোন তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। এই সনটি কাজে লাগিয়ে প্রতারক ও জালিয়াত চক্র ১৯৭১ সনের তারিখ দিয়ে ভুয়া জাল দলিল সৃষ্টি করে। উক্ত দলিল মূলে আহাম্মদ আলীর মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশগণ, সেলিমগং কুরবান আলীর জমির খারিজ ভাঙার জন্য মামলা করে হেরে যায়। সর্বশেষ আপিলে বিভাগীয় কমিশনার অফিসেও হেরে যায়। অবশেষে ভূমি আপিল বোর্ডে মামলা করলে সেলিমগং দের পক্ষে রায় দেয়।

পরবর্তীতে কুরবান আলীর পুত্র জুলহাস ১৯৬৮ সালের সৃজিত জাল দলিল, যার দলিল নং- ৪৫৬৬ এর বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ জেলার জজ আদালতে মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত পর্যালোচনা শেষে জুলহাসের পক্ষে রায় দেন এবং মামলায় উল্লেখিত ৪৫৬৬ নং দলিল জাল প্রতীয়মান হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করেন। এতে করে পূর্বের আপিল বোর্ডের রায় সংগত কারণেই বাতিল হয়ে যায়। এ রায় হওয়ার পর সেলিমগং উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন, যাহা চলমান। এদিকে সেলিমগং একটি রাজনৈতিক দলের বহিস্কৃত নেতা মঞ্জু মেম্বার ও আদিল, সোহেল রানা, সাত্তার গংদের নেতৃত্বে ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর উক্ত জমি ও স্থাপনা জবর দখলের চেষ্টা করে। সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকায় ত্রাস ও জনমনে ভয় সৃষ্টি করে। উক্ত জমি জবরদখল ও সাইনবোর্ড লাগানোর চেষ্টা করেন বলে ভুক্তভোগী জুলহাস জানান। সন্ত্রাসীদের অশালীন ও মারমুখী আচরণ সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলে কথা বলতে সাহস পায় না। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রশাসনের কাছে অবহিত করা হয় বলে জুলহাস জানায়। বর্তমানে জুলহাস সন্ত্রাসীদের ভয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে আতঙ্কে দিন অতিবাহিত করছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।