চুয়েট কর্মকর্তা সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা—চট্টগ্রাম  প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) এ ভিসি নিয়োগকে ঘিরে উত্তেজনার নিরসন হচ্ছেনা। এই নিয়োগকে ঘিরে দুইপক্ষের মধ্যে চলছে নিয়মিত বাকবিতণ্ড। সরকার এই বিষয়টি নিয়ে কঠোর না হওয়ায় ভিসি নিয়োগের নাটক চলছেই। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলেও কারও কোন মাথাব্যাথা নেই। কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি সৈয়দ মো. ইকরাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, বক্তব্য প্রদানে বাধা এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।
শারীরিক ভাবে ও গালিগালাজ এখন চুয়েট ক্যাম্পাসে নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র অ্যাকাউন্টস অফিসার ইয়াসির আরাফাত বৃহস্পতিবার উপাচার্যের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে এসব বিষয় উল্লেখ করে নিরপেক্ষ তদন্ত, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রশাসনিক সুরক্ষা দাবি করেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ অক্টোবর ইউজিসির তদন্ত কমিটির সভা শুরুর আগে সভাপতি সৈয়দ মো. ইকরাম সবার সামনে তর্জনী উঁচিয়ে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং আসন ছেড়ে যেতে বলেন। পরে সাধারণ সম্পাদক মো. মকবুল হোসেন তাঁকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন তাঁকে সতর্ক করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আগেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, হুমকি ও অশালীন ভাষায় গালাগালির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে তিনি গত তিন মাস ধরে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করতে পারছেন না বলেও লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ইকরাম সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমের ভাগনে উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, পারিবারিক সম্পর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদের সুবাদে তিনি প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এ ছাড়া, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক তদবির করার দাবি করা হয়। চলমান ছাত্র আন্দোলনে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী এসব কর্মকাণ্ডকে কর্মকর্তা আচরণবিধি ও দাপ্তরিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে চুয়েটকে ব্যর্থ করার প্রচেষ্টায় সরকারবিরোধী মহল ও সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের অনুসারী কিছু কর্মকর্তা সক্রিয় রয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।

ইয়াসির আরাফাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, সভার কার্যবিবরণী ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।