রাঙ্গামাটি থেকে ফিরে আব্দুল কাদের—রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙালহালিয়া ইউনিয়নের শফিপুর গ্রামে একটি মসজিদের নাম পরিবর্তন করে একাধিকবার সরকারি-বেসরকারি অনুদান গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিপুর গ্রামে ১৯৯০ সালের পর “শফিপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ” নামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে মরহুম আওয়াল চেয়ারম্যান, মরহুম আব্দুল কাদের মেম্বার, মরহুম মহব্বত ডাক্তার, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা নিয়ামত আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন একই নামে পরিচালিত হওয়ার পর সম্প্রতি মসজিদটির নাম পরিবর্তন করে পর্যায়ক্রমে “শফিপুর মধ্যমপাড়া জামে মসজিদ”, “শফিপুর জামে মসজিদ” এবং সর্বশেষ “শফিপুর মোতাওয়াল্লী জামে মসজিদ” নাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে সরকারি অনুদানসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৯৮২/৮৩ সালে তৎকালীন সেনাবাহিনী কর্তৃক শফিপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত আনুমানিক ৫ একর জমি “মোতাওয়াল্লী মসজিদের নামে রেকর্ড আছে” দেখিয়ে ভোগ-দখলের চেষ্টা চলছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও শফিপুর মোতাওয়ালী জামে মসজিদ এর সভাপতি জনাব সিদ্দিক মোল্লা বলেন,নেয়ামত পিসির টিলার সামনে যে “মসজিদটি ৯২/৯৩ সালের দিকে স্থাপন করা হয়। একেক সময় একেক নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এ ধরনের তামাশা লজ্জাজনক। আমি চাই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
রাজস্থলী উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “মসজিদটি নিয়ে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে অনুদান আত্মসাতের বিষয়টি আমি শুনেছি। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।”
জনাব আব্দুল হক কাজী সাহেব ও সেক্রেটারি শফিপুর মোতাওয়ালী জামে মসজিদ
উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ঘটনাটা আমি শুনছি খুবই দুঃখজনক একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে এই ধরনের কাজ করা কোনভাবেই কাম্য নয়,
বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি জনাব মহিউদ্দিন বলেন ঘটনাটি নিয়ে উপরের মসজিদের লোকদের সাথে আমাদের এক ধরনের যুদ্ধ চলতেছে তাদের মসজিদ ৯০ এর পরে করা আর আমাদের মসজিদ ১৯৮৩ সালে স্থাপন করা, তখনকার সরকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এই মসজিদের নামে জায়গা দিয়ে গিয়েছিল, ওই সময় এই শফিপুরে একটা মাত্র মসজিদ ছিল, নতুন নতুন মসজিদ হয়েছে একটা মসজিদের বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রশাসনের বিষয়টা দেখার দরকার-
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার জনাব কায়েম হোসেন মিরাজ বলেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম দুঃখজনক এবং আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী।”
স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বী বলেন, “ঘটনাটি শুনে আমি মর্মাহত। একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ ধরনের কাজ সমাজের জন্য কাম্য নয়।” আমরা শুনতে পাইছি একেক সময় একক নাম দিয়া বিভিন্ন দপ্তর থেকে অনুদান উত্তোলন করেছে,,বিগত দিনে দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ নাম দিয়া জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ এনে বিল্ডিং করেছে, যারা এই মসজিদ নিয়ে এমন কাজ করতেছে আসলে তাদের কোন কাজ কাম নাই তারা বিভিন্ন লোকের জায়গা, গাছ বিক্রয়,মামলা বাণিজ্য ধান্দাবাজি করে বেড়ায়, বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের খতিয়ে দেখার দরকার।
স্থানীয় মহিলা মেম্বার জনাবা সালমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার ফোনে ফোন দিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
মসজিদের নামের বিষয়ে জানতে চাইলে
রাজস্থলী উপজেলার কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক জনাব সুমন বলেন আমি শুনেছি আমি হতভম্ব মসজিদ নিয়ে মানুষ এ ধরনের কাজ করতে পারে। বিষয়টি প্রশাসনের খতিয়ে দেখার দরকার।
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
