রাঙ্গামাটি থেকে আব্দুর রাজ্জাক:–দুর্যোগে মানুষের পাশে মানবতার দেয়াল: বাঙ্গালহালিয়ায় সেনাবাহিনীর ত্রাণ ও পুনর্বাসন,
প্রকৃতি যখন রুদ্ররূপ ধরে, তখনই আসল মানুষগুলো চেনা যায়। টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড় ধ্বসে যখন রাঙামাটির বাঙ্গালহালিয়ার দুর্গম পাড়াগুলো বিচ্ছিন্ন, ঘর-বাড়ি ভেঙে মানুষ যখন অসহায় – ঠিক তখনই তাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ালো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
কাপ্তাই জোনের বাঙ্গালহালিয়া সাবজোনের উদ্যোগে “সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প” এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ ও গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
দুর্গম পাড়ায় সেনাবাহিনীর মানবিক হাত
কাপ্তাই জোনের আওতাধীন বাঙ্গালহালিয়ার দুর্গম কাকড়াছড়ি পাড়া ও সংলগ্ন এলাকার ৩৯টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে পৌঁছে যায় সেনাবাহিনীর ত্রাণ টিম।
প্রতিটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় শুকনো খাদ্যসামগ্রী। পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া ঘরগুলো মেরামতের জন্য দেওয়া হয় ঢেউটিন।
মাঠে ছিলেন জোন কমান্ডার
এই মানবিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন কাপ্তাই জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ নাজমুল কাদির শুভ, পিএসসি। তার দিকনির্দেশনায় বাঙ্গালহালিয়া সাব-জোন অধিনায়ক মেজর মো: এস আরেফিন নিজে উপস্থিত থেকে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এ সময় ৩ নং বাঙ্গালহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং মারমা সহ স্থানীয় কারবারি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিপদে সেনাবাহিনীই ভরসা
ত্রাণ পেয়ে এক বৃদ্ধ বলেন, “বৃষ্টিতে ঘর ভেঙে গেছে। খাওন নাই। ভাবছিলাম কেউ আইবো না। সেনাবাহিনীর ভাইয়েরা কাদা ভাইঙ্গা আমাগো ঘরে চাল-ডাল আর টিন দিয়া গেছে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, যেকোনো দুর্যোগে, যেকোনো সংকটে সবার আগে ছুটে আসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বৃষ্টিতে ভিজে, কাদামাখা শরীর নিয়ে তারা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে সহায়তা পৌঁছে দেন।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনগণের প্রয়োজনে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
