কয়রায় ৫৯টি দুর্গাপূজা মন্দিরে আর্থিক সহায়তা, ৫৪ প্রকল্পের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর অপশক্তি প্রতিহত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান সংসদ সদস্য ফাহমিদা হকের

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: তৌহিদুর রহমান শান্ত–শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক। তিনি বলেন, কোনো অপশক্তি যেন উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য মন্দির কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় খুলনার কয়রা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরগুলোর অনুকূলে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং খুলনা জেলা পরিষদের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।

ফাহমিদা হক বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। তাই আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা এবং ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে বিশ্বাস করে। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা ভুলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ দেশ গড়তে হবে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। দুর্গোৎসব উপলক্ষে মন্দিরগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট মন্দিরের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। অবহেলিত কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পর্যায়ক্রমে আরও বরাদ্দ এনে এ অঞ্চলকে আধুনিকায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কয়রা উপজেলার দুর্গাপূজা মন্দিরগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং ৫৪টি আর্থসামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়। জেলা পরিষদ প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে সহায়তা এবং প্রকল্পের বরাদ্দপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ৫৯টি পূজামণ্ডপের জন্য প্রতিটিতে ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা জানানো হয়। তবে বিতরণসংক্রান্ত তথ্যে মোট অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে চার লাখ টাকা।

প্রধান বক্তা এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপনে বিএনপির পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। খুলনা জেলার ৮৮৭টি পূজামণ্ডপে উৎসব আরও আনন্দঘন করতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করবেন। মণ্ডপের নিরাপত্তা ও উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতেও নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম নান্নু, কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান ও মনিরুজ্জামান বেল্টু এবং কয়রা প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনর রশীদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অম্বিকা চরণ সানা, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।