রাজস্থলী (রাঙ্গমাটি) প্রতিনিধি–রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের শফিপুর গ্রামে একটি শিশুকে মসজিদে কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শফিপুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শফিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মিসেস হুরে জান্নাত শিমুর ছেলে মোঃ রাউফ (বয়স আনুমানিক ৯) দীর্ঘদিন ধরে শফিপুর জামে মসজিদের ইমামের কাছে কোরআন শিক্ষা নিত। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে কমিটির দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমান প্রিন্স-এর নির্দেশে ইমাম তাকে পড়াতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা মিসেস হুরে জান্নাত শিমু জানান, “ইমাম সাহেব বলেছেন, কমিটির কর্তা মিজানুর রহমান হুজুরকে নিষেধ করেছেন তাই রাউফকে পড়াতে পারবেন না। আমার ছেলেটা ছোট, ওর কী দোষ? আমার সাথে আমাদের পরিবারের সাথে কারো ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু আমার শিশু সন্তানের সাথে তো কারো ঝগড়া নেই।”
ভুক্তভোগীর স্বামী সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, “আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। আমার স্ত্রী ও তিন শিশু সন্তান বাড়িতে একা। আমি এর আগে শফিপুর সরকারি কবরস্থানের গাছ টেন্ডারবিহীন ৭ লাখ টাকায় বিক্রি এবং একটি মসজিদের একাধিক নাম ব্যবহার করে সরকারি ও বেসরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলাম। সেই সংবাদের জের ধরেই কমিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি প্রতিহিংসামূলকভাবে আমার শিশু সন্তানকে টার্গেট করেছেন বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। এটি আমার অভিযোগ।
এলাকাবাসীর মতে, শফিপুর জামে মসজিদ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সরকারি অনুদানে পরিচালিত একটি মসজিদ। এটি আল্লাহর ঘর, দশ জনের। এটি কোনো ব্যক্তির বা মসজিদ কমিটির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। কমিটি আজ আছে কাল নেই, কিন্তু মসজিদ থাকবে। মসজিদকে মগের মুল্লুকের মতো ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মসজিদ কমিটির দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমান প্রিন্সের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। শফিপুর জামে মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে জানতে চাইলে তিনি কমিটির নিষেধ রয়েছে বলে জানান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তারা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান, চন্দঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ শাকের আহমেদ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক গণশিক্ষা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা রাজস্থলী উপজেলার কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছেন।
তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে (seriously) দেখবেন এবং রাউফ যেন মসজিদে কোরআন পড়তে পারে সেই ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO), ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পরিবারের দাবি, প্রশাসন যেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিশুকে এভাবে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে না হয়।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
