সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ — সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার

রূপান্তর বাংলা নিজস্ব সংবাদদাতা—বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান
আজ রাঙামাটি জেলার আওতাধীন সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় জনগণকে জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ করে এবং পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সাজেকে ভ্রমণরত প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন।

আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পর্যটকবাহী যানবাহন আটকে দেয়। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। আলোচনা চলাকালে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

এর কিছুক্ষণ পর, সকাল ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০-৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে সশস্ত্র সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সকল পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এই অবরোধ ও সহিংসতা পূর্বপরিকল্পিত। স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে বাধ্য করা এবং মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানে কোণঠাসা হয়ে ইউপিডিএফের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পর্যটন শিল্পের জন্য হুমকি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে পার্বত্য এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।