রুপান্তর বাংলা (রাঙামাটি) প্রতিনিধি–রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার তাইতংপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে চলছে প্রকাশ্য হরিলুট। খালের পাড় কেটে মাটিযুক্ত নোংরা বালি দিয়ে ঢালাই ও ভরাটের কাজ চলছে বলে ভিডিও প্রমাণ মিলেছে। এতে যেকোনো সময় ধসে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে পুরো ভবনটি। আর এই প্রকাশ্য অনিয়মের পরও প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।
এর আগে এই ভবনের অবস্থান (খালের কিনারে ঝুঁকিপূর্ণ) ও টেন্ডার অনিয়ম (টেন্ডার আইডি: 376864) নিয়ে ধারাবাহিক পর্ব-১ ও পর্ব-২ প্রকাশিত হয়েছিল। তখন উপজেলা প্রশাসন সাইট পরিদর্শন করে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা করা হয়নি।
এই প্রতিবেদকের হাতে আসা ৫টি ভিডিও ও ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায়, স্কুল সংলগ্ন খালের পাড় এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছে। নীল রঙের Nissan জীপে করে সেই মাটিযুক্ত, কাদা-মেশানো বালি সাইটে আনা হচ্ছে। যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। PWD/EED এর নিয়ম অনুযায়ী ঢালাইয়ে পরিষ্কার সিলেট বালি ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও, সাইটে মাটিযুক্ত কালো বালি দিয়ে ফাউন্ডেশন ও ভরাটের কাজ চলছে। ভিডিওতে শ্রমিকদের বস্তায় করে কাদা মাটি ভরতে দেখা গেছে। সরকারি প্রকৌশলীদের নজর এড়াতে ছুটির দিনে এই নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জানান, মাটিযুক্ত বালি দিয়ে ঢালাই করলে কংক্রিট ৫০% শক্তি হারায়। ২-৩ বছরের মধ্যে প্লাস্টার খসে পড়বে, রডে মরিচা ধরবে। খালের কিনারে রিটেইনিং ওয়াল ছাড়া ৬ তলা ভবন করা আত্মঘাতী। সামান্য পাহাড়ি ঢলেই মাটি সরে গিয়ে ভবন হেলে পড়তে পারে। এটা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য মরণ ফাঁদ।
এত প্রমাণের পরও উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (EED) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নীরবতা রহস্যজনক। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কার স্বার্থে এই নীরবতা?
এ বিষয়ে পার্বত্য নাগরিক অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, ইতিপূর্বে এ বিষয়ে বেশ কিছু গণমাধ্যমে নিউজ এসেছে, আমরা জানতে পেরেছি। প্রশাসন নীরব থাকায় আমাদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আসলে যারা বিএনপি করে তারা দুর্নীতি করলে কি তাদের কোনো সমস্যা হয় না?
নাম প্রকাশ অনেক সুখ কয়েকজন ব্যক্তি বললেন এই কাজ যিনি করতেছেন তিনি বিএনপির রাজনীতি করেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা মিলে এই কাজ করতেছে।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে নদীর পাড় কাটা বন্ধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা, সাইটে থাকা বালির নমুনা ল্যাব টেস্ট এবং রিটেইনিং ওয়াল ছাড়া কাজ স্থগিত রাখা হোক। অন্যথায় তারা জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেবেন। ভিডিও প্রমাণ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
