অসহায় বিচার প্রার্থীগণ সিনিয়র সহকারী জজ নেই ৯ মাস: ভেঙে পড়ার পথে দেওয়ানি বিচারব্যবস্থা

রূপান্তর বাংলা -সংবাদদাতা—বান্দরবান পার্বত্য জেলায় দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সিনিয়র সিভিল জজের পদ শূন্য থাকায় দেওয়ানি বিচারব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে করে জেলার হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, জেলার একমাত্র দেওয়ানি আদালত—জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থিত সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে গত নয় মাস ধরে কোনো বিচারক নেই। সর্বশেষ দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সিভিল জজ মোহাম্মদ দাউদ হাসান পদোন্নতির কারণে বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে পদটি এখনো শূন্য রয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, বিচারক না থাকায় মামলা দায়ের, জরুরি নিষেধাজ্ঞা, সাক্ষ্যগ্রহণ, তদন্তসহ প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বান্দরবানের দেওয়ানি আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাজীব চন্দ্র ধর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আদালত অচল থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে বছরের পর বছর মামলা ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমানে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একজন বিচারক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কিছু সিভিল মামলা দেখলেও, নিজ আদালতের চাপ সামলাতে গিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আবদুল কালাম আজাদ জানান, জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ দেওয়ানি মামলা এই আদালতের অধীনে বিচারাধীন। এছাড়া গ্রাম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও এখানেই নিষ্পত্তি করা হয়। কিন্তু বিচারক না থাকায় পুরো কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।

সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিক অধিকার—বিশেষ করে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের আশ্রয় লাভ এবং দ্রুত ও ন্যায্য বিচারের অধিকারের পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভূমি ও পারিবারিক বিরোধ জটিল আকার ধারণ করছে এবং এতে আইনের শাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিনিয়র সিভিল জজ পদে একজন যোগ্য বিচারক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।