্রূপান্তর বাংলা মোঃ জসিম উদ্দিন—চন্দ্রঘোনা, রাঙামাটি: চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে ফের ঘটলো দুর্ঘটনা। ব্রেকফেল হওয়া ইটবোঝাই গাড়ির ধাক্কায় সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে গেল। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় প্রাণে বেঁচে গেছেন স্থানীয় সাংবাদিক হারাধন কর্মকার।
ঘটনাটি ঘটে আজ মঙ্গলবার বিকেলে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক হারাধন কর্মকার জানান, তিনি রাঙামাটি থেকে সিএনজি যোগে চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে আসেন। এসে দেখেন ফেরির পাটাতনে হাঁটু সমান পানি। বর্ষার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ফেরির অপেক্ষায় সিএনজিটি রাস্তার একপাশে দাঁড় করানো ছিল। ঠিক তখনই পেছন থেকে ইট বোঝাই একটি চাঁদের গাড়ি ব্রেকফেল হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে সিএনজির পেছনে ধাক্কা দেয়।
এ সময় হারাধন কর্মকার সিএনজির এক সাইডে একা বসে ছিলেন। সামনে একটি মোটরসাইকেল থাকায় কোনোমতে লাফ দিয়ে তিনি প্রাণে বাঁচেন।
এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল, সিএনজি ও একটি মিনি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়ির মালিকরা গাড়ি মেরামতের দায়িত্ব নিলেও প্রাণহানির ঝুঁকি থেকেই যায়।
প্রতি বছর একই চিত্র
স্থানীয়দের অভিযোগ, চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এবং শুকনো মৌসুমে পানি কমে গেলে বা বেড়ে গেলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন দুই পাশে শত শত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে।
এই সময় গাড়িগুলো এক লাইন বা দুই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে ব্রেকফেল হওয়া ট্রাক, পিকআপ, চাঁদের গাড়ি প্রায়ই সামনের ছোট গাড়িগুলোকে ধাক্কা দিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে।
প্রশাসনের কাছে দাবি
এমতাবস্থায় রাঙ্গুনিয়া, কাপ্তাই ও রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক হারাধন কর্মকার ও স্থানীয় জনসাধারণ।
তাদের দাবি, চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটের দুই পাশে দুই জন ট্রাফিক পুলিশ নিয়োজিত রাখা হোক।
ট্রাফিক পুলিশ থাকলে যানবাহনের লাইন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনা থেকে যাত্রী সাধারণ কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।
“আজ আমি বেঁচে গেছি। কিন্তু কাল অন্য কারো প্রাণ না যায়, সেজন্য এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি” – বলেন হারাধন কর্মকার।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
