হাইকোর্টের আদেশঅমান্য করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ রাঙামাটিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

মোঃ মোশারপ হোসেন সেলিম রাঙ্গামাটি–রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকার একটি পরিবার তাদের ওপর সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও ভূমি দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ভুক্তভোগী পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফাতেমা আক্তার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অত্যন্ত গভীর দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তারা আজ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন। তার সঙ্গে পরিবারের সদস্য ও নির্যাতিত শিক্ষানবিশ আইনজীবী নূর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তারা দীর্ঘ ৩০–৩৫ বছর ধরে রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোয়ার্টার সংলগ্ন একটি সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে আসছেন।

তিনি জানান, জমিটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের বাউন্ডারির বাইরে অবস্থিত। তার বাবা মরহুম আবুল কালাম জীবদ্দশায় সেখানে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে বসবাস করে আসছেন। ২০১৯ সালে জমিটি বন্দোবস্তের জন্য তারা বাজার ফান্ডে আবেদন করেন। তবে তাদের আবেদনের দুই বছর পর একটি মহল পাল্টা আবেদন করে হয়রানি শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা এবং মাস্টার রোলে কর্মরত তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে তাদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

ফাতেমা আক্তার বলেন, জমিটি নিয়ে বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে (রিট পিটিশন নং–১০৩/৯৯ অবলিক ২৪)। আদালত উক্ত জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে সম্প্রতি তাদের ঘরের ওপর একটি বড় কাঁঠাল গাছ ফেলে ঘর ভেঙে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘর মেরামতের সময় প্রায় ১০০–১৫০ জন লোক নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় পরিবারের সদস্যরা আহত হন এবং নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ঘর থেকে মূল্যবান আসবাবপত্র ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। অভিযোগ করা হয়, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই লুটপাট সংঘটিত হলেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারী তোফায়েল আহমেদ সরকারি কর্মকর্তা হয়েও সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তিনি নিজে ও তার সহযোগীরা একাধিক পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবিসমূহ—
১. হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী জমির স্থিতাবস্থা বজায় রেখে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২. হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার।
৩. ভাঙচুর ও লুটপাটের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. ইকবাল, ফাতেমা আক্তার, মো. মুরাদ, কুলসুমা আক্তার ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী নূর হোসেন।

ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ন্যায়বিচারের দাবি জানান।