পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পেয়ে বসবাসরত সকল বাঙালিগণ খুশি

রুপান্তর বাংলা বিশেষ প্রতিনিধি—–পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এসেছে নতুন নেতৃত্ব। মন্ত্রী হয়েছেন দীপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
স্থানীয় বাঙালিরা বলেন প্রায় ২৮-৩০ বছর ধরে আমরা বাঙালি যারা আছি তারা অবহেলিত তিন পার্বত্য এলাকা পাহাড়িদের নেতৃত্বেই আমাদের চলতে হয়, এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হবে নির্বাচনে যিনি জয়লাভ করবেন
তিনি তার অধীনস্থ এলাকার নেতৃত্ব দিবেন।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন এটা নিয়ম থাকলেও পার্বত্য এলাকায় এই নিয়ম নাই।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শপথ নেন। এরপর দপ্তর বণ্টনে দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন পার্বত্যাঞ্চলের বাসিন্দা দীপেন দেওয়ান। তিনি পার্বত্য রাঙামাটি থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে।
দীপেন দেওয়ান পার্বত্যাঞ্চলের চাকমা জাতিসত্তার লোক বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী আর মীর হেলাল ইসলাম ধর্মের অনুসারী লোক।

এর আগে কখনো পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একসঙ্গে একাধিক মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেননি। নির্বাচিত সরকারের আমলে যে একজন করে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাঁরা পাহাড়ি বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
ইসলাম ধর্মের অনুসারী কোন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী তিন পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত বাঙালিরা পায় নাই।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় যাত্রা শুরু করে ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই। এর আগের বছর সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তানুসারে এই মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। পাহাড়ে সংঘাত পেরিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনাই ছিল সেই চুক্তির লক্ষ্য
যে কারণে শান্তি চুক্তি করা হয়েছিল সে কারণ বড় খেলাফ করা হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন মনে করেন, তারা বলেন পাহাড়ে চাঁদাবাজি অপহরণ জিম্মি খুন কোন দিক দিয়ে কমছে আপনারা বলুন —??

কী আছে চুক্তিতে

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ক, খ, গ ও ঘ খণ্ডে ৭২টি ধারা রয়েছে। এর বেশির ভাগই জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ গঠনসংক্রান্ত। চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ ধারায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের কথা বলা আছে।

ওই ধারায় লেখা আছে, ‘উপজাতীয়দের মধ্য হইতে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হইবে।’
এই ধারায় প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে কিছু বলা নেই।
যেহেতু প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ নাই সেহেতু অবহেলিত বাঙালিদের জন্য প্রতিমন্ত্রী দিলে বাঙালিরা খুশি,
বাঙালিরা মনে করেন তারা তাদের সুখ দুঃখ নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে প্রতিমন্ত্রীর নিকট জানাতে পারবেন আর উপজাতি যারা আছেন তারা তাদের সুখ দুঃখ নির্ভয়ে মন্ত্রীর নিকট জানাতে পারবেন। পাহাড়িদের মধ্যে যতগুলো মন্ত্রী ইতিপূর্বে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এসেছে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীরা তাদের ধর্মের লোকদের সকল কিছুতেই প্রাধান্য দেয় বেশি বাঙ্গালীদের কে প্রাধান্য দেওয়া হয় না বলে স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি অভিযোগ করেন।

যদিও এর আগে অনেকেইএই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা ছিলেন পাহাড়ি জাতিসত্তার।

ওই চুক্তির বলেই পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়। আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পাচ্ছেন।
জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) এই পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রায় তিন দশক আগে তিনিই সরকারের সঙ্গে ওই চুক্তিপত্রে সই করেছিলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে মন্ত্রী নিয়োগের বিষয়ে যা বলা আছে।

আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ‘অবশ্যই উপজাতীয়’ হবেন বলে চুক্তির ‘গ’–এর ২ ধারায় বলা আছে। ২২ সদস্যের এই পরিষদের দুই–তৃতীয়াংশ ‘উপজাতীয়দের’ জন্য সংরক্ষিত থাকলেও ‘অউপজাতীয়’দের জন্য সাতটি সদস্য পদ (ছয়জন পুরুষ ও একজন নারী) রাখা হয়েছে।

আবার পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের বিষয়টি চুক্তিতে রয়েছে। ১৪ সদস্যের ওই কমিটিতে পার্বত্যাঞ্চলের বাসিন্দা তিনজন ‘অউপজাতীয়’কে রাখার কথা বলা আছে। এ কমিটিতে মন্ত্রীর সঙ্গে আরও সদস্য থাকেন আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, তিন জেলা (খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান) পরিষদের তিন চেয়ারম্যান, পার্বত্য তিন জেলার তিন সংসদ সদস্য এবং চাকমা রাজা, বোমাং রাজা ও মং রাজা- উল্লেখিত চুক্তির অনেক ধারা নিয়ে বাঙালিদের দ্বিমত রয়েছে, বাঙালিরা বলেন শান্তি চুক্তি অনুযায়ী আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পাহাড়িদের মধ্যে হোক তাতে আমাদের দুঃখ নাই কিন্তু জেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান ও সদস্য অবশ্যই নির্বাচনের মাধ্যমে হতে হবে।
শান্তি চুক্তি অনুযায়ী পাহাড়িদের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী আসুক তাথে বাঙ্গালীদের কোন সমস্যা নাই- সাথে সাথে বাঙালিদের মধ্যেও একজন প্রতিমন্ত্রী আসলে উনাদের দুজনের সমন্বয়ে পাহাড়ি বাঙালি মেলে খুব সুন্দর করে পার্বত্য এলাকাকে প্রশাসনিক বলেন অর্থনৈতিক বলেন শিক্ষা দীক্ষা কর্মে
সার্বিক উন্নয়নে সঠিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে।
বাংলাদেশ হল মুসলিম কান্ট্রি দেশ সে দিক দিয়ে বিবেচনায় বর্তমান সরকার উজ্জ্বল নক্ষত্র।
ধর্মীয় লোকদের কথা চিন্তা করলে অবশ্যই একজন মুসলিম প্রয়োজন সেই লক্ষ্যে
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে
পাহাড়ি বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারী একজন মন্ত্রী,
ইসলাম ধর্মের অনুসারী একজন প্রতিমন্ত্রী।
নতুন করে স্বপ্ন দেখার আশা জাগিয়েছে বর্তমান সরকার–জেএসকেপি