নিজস্ব প্রতিবেদক: চটগ্রাম,
দেশে জ্বালানি সংকট ও আমদানি ব্যয়ের চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে সরকার যখন জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা নির্দেশনা দিচ্ছে, তখন জ্বালানি খাতের ভেতরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তন না আনলে ভর্তুকির বোঝা ক্রমেই বাড়তে থাকবে।
জানা গেছে, দেশের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), শোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড, এবং বিপণন ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি।
সমালোচকদের মতে, এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতা, দুর্বল নজরদারি ও কথিত অনিয়মের কারণে জ্বালানি খাতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিবছর সরকার বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করছে। তবে একইসঙ্গে জ্বালানি খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—যদি ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ ও দক্ষ হতো, তাহলে এত বড় ভর্তুকির প্রয়োজন পড়ত কি না।
অন্যদিকে, জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে অবস্থিত হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বড় অংশ ঢাকাকেন্দ্রিক—এমন অভিযোগও রয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের তদারকি ও জবাবদিহির বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এছাড়া জ্বালানি সংরক্ষণ, পরিশোধন, লোড-আনলোড এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগও বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে।
কর্ণফুলী নদী এলাকা ঘিরে অতীতে তেল চোরাচালানের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সাশ্রয়ী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সমস্যার মূল সমাধান নিহিত রয়েছে ব্যবস্থাপনার সংস্কারে। তারা বলছেন, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে শুধু ভর্তুকির চাপ কমবে না, বরং রাষ্ট্রের রাজস্বও বাড়তে পারে।
তাই জ্বালানি খাতকে কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে দ্রুত সংস্কার, কঠোর নজরদারি এবং দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
(বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে)
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
