হাইকোর্টের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও নিম্ন আদালতে মামলা চলমান, ভোগান্তিতে জমির মালিক

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:—মহামান্য হাইকোর্টের জারি করা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট জমির দলিল বাতিল সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও নিম্ন আদালতে নামজারি বাতিলের কার্যক্রম চলমান থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বাসিন্দা মো. রুহুল আমীন।

ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ১৫০২২/২০২৪ দায়ের করেন। ওই রিটে সংশ্লিষ্ট জমির বিষয়ে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। এরই মধ্যে জিয়াউল ইসলাম কর্তৃক দায়েরকৃত মিসকেস (আপিল) নং-৪৯/২০২৪-এর শুনানি শেষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (রাজস্ব), ময়মনসিংহ পূর্বের নামজারি বাতিল করে বিষয়টি পুনঃশুনানির জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), মুক্তাগাছার নিকট মিসকেস নং-২১৪/২০১৫-২০১৬ মামলাটি প্রেরণ করেন। বর্তমানে সেখানে মামলার কার্যক্রম চলছে।

জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার ২নং বড়গ্রাম ইউনিয়নের রৌয়ারচর রঘুনাথপুর মৌজার এসএ দাগ নং-৯৩১ ও ৮৫৮ এবং বিআরএস দাগ নং-২২৯২-এর মোট ৫২.৫০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন হেলাল উদ্দিন। তিনি ১৯৮৬ সালে ছয়টি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে তার সম্পূর্ণ অংশ তালেব আলী গং ও সুলতান গংদের নিকট বিক্রি করেন। পরবর্তীতে তারা দীর্ঘদিন ভোগদখল ও নামজারি করার পর ২০০৫ সালে জমিটি মো. রুহুল আমীন গংদের নিকট বিক্রি করেন। এরপর থেকে রুহুল আমীন প্রায় ২০ বছর ধরে নামজারি, খাজনা পরিশোধ ও ভোগদখলে রয়েছেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, হেলাল উদ্দিনের ১৯৮৬ সালের ১১৫৬৪ ও ১১৫৬৫ নম্বর দুটি বিক্রয় দলিলে ভুলবশত বিআরএস দাগ নম্বর উল্লেখ করা হয়। বিআরএস ২২৭৪ দাগের জমি, যা এসএ ৮৫৮ দাগের অন্তর্ভুক্ত, হেলাল উদ্দিন জীবিত থাকাকালীন ১৯৮৬ সালে ১২৩৬৮ দলিলে ১০ শতক এবং ১৯৮২ সালে অসিয়তনামা ৮ নং দলিলে ২২.৫ শতক—মোট ৩২.৫ শতক বিক্রি করেন। ওই বিআরএস ভুলের সুযোগ নিয়ে হেলাল উদ্দিনের কথিত ওয়ারিশরা নিজেদের মালিক দাবি করে ২০০৫ সালে একই জমির ওপর পুনরায় ১৬১৭ নম্বর একটি দলিল সৃষ্টি করেন। পরে ওই দলিলের ভিত্তিতে ওয়ারিশগণ নামজারি করে ২০০৬ সালে ৭৮৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জিয়াউর ইসলামের নিকট হস্তান্তর করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি চালানোর পাশাপাশি রুহুল আমীনের নামজারি বাতিলের আবেদন করেন।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), মুক্তাগাছা উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ওয়ারিশদের পক্ষে জিয়াউল ইসলামের আবেদন খারিজ করে দেন। পরে তারা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর নিকট আপিল করেন। আপিলের পর নামজারি বাতিল করে বিষয়টি পুনঃশুনানির জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নিকট ফেরত পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একই জমি নিয়ে হাইকোর্টে রিট মামলা বিচারাধীন এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও নিম্ন আদালতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তার দাবি, এতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে একাধিক আইনজীবীর মতে, কোনো জমি সংক্রান্ত বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টের কার্যকর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলে, সেই আদেশের পরিপন্থী কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিষয়টি নির্ভর করবে হাইকোর্টের আদেশের সুনির্দিষ্ট ভাষা ও পরিধির ওপর।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মো. রুহুল আমীন। একই সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের বিরোধ ও হয়রানির অবসান এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের দ্রুত আইনগত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।