দীঘিনালা থানা পুলিশের উদ্যোগে মেরুং বাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বিশেষ  প্রতিনিধি:মো আব্দুল কাদের
মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীঘিনালা থানা পুলিশের উদ্যোগে উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র মেরুং বাজারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান এবং সামাজিকভাবে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। র‍্যালিটি মেরুং বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
সুধী সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে দীঘিনালা থানা পুলিশ কঠোর ও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, মাদকের কেনাবেচা, সেবন কিংবা মাদকসংক্রান্ত যেকোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীর পরিচয় বা প্রভাব কোনোভাবেই আইনি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
ওসি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে সামাজিক প্রতিরোধ
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. শফিকুর রহমান পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না; এর প্রভাব একটি পরিবার থেকে শুরু করে পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ
মাদকবিরোধী এই কর্মসূচিতে মেরুং বাজার ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ব্যবসায়ী, সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ এবং সাধারণ নাগরিকদের উপস্থিতিতে কর্মসূচিটি জনসম্পৃক্ত রূপ পায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে দীঘিনালায় মাদকের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার তাগিদ
সচেতন মহলের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এর সামাজিক ও পারিবারিক কারণগুলো মোকাবিলা করাও জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
মেরুং বাজারের এই কর্মসূচি তাই শুধু একটি মাদকবিরোধী র‍্যালি নয়, বরং মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।