রুপান্তর বাংলা বিশেষ প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি–রাঙ্গামাটিজেলার রাজস্থলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তাইতংপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কাপ্তাই খালের পাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৬ তলা ভবন নির্মাণ নিয়ে “রূপান্তর বাংলা”র “ভবন নয় যেন মরণ ফাঁদ” শিরোনামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়েছে প্রশাসনের।
গত ১৬ আগস্ট রূপান্তর বাংলার নিউজ প্রকাশের পর রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ইউএনও মহোদয়কে ভবন নির্মাণ কর্তৃপক্ষ জানান, “ভবনের পাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী ওয়াল নির্মাণ করা হবে”।
কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা এই সাময়িক সমাধান মানতে নারাজ। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, “ওয়াল দিয়ে খালের ভাঙন ঠেকানো যাবে না”।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা রূপান্তর বাংলাকে বলেন,
“ওয়াল করলেও ভবিষ্যতে পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া স্রোত বর্ষার প্রবল পানিতে ওই ওয়ালসহ পুরো ভবন খালে ধসে পড়বে। তখন এই কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি আর আমাদের হাজারো কোমলমতি শিক্ষার্থীর জীবনের দায় কে নেবে?”
তাদের দাবি, ভবিষ্যতে ভবনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তার জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কাজের সাথে জড়িত ঠিকাদারসহ সবাইকে দায় নিতে হবে।
এলাকাবাসীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের বাউন্ডারির ভিতরে কয়েক একর সমতল ও নিরাপদ জায়গা খালি পড়ে থাকার পরও কেন খালের ভাঙনপ্রবণ পাড়কেই বেছে নেওয়া হলো?
একজন অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, “স্কুলের সামনে এক একরের অধিক জায়গা থাকার পরও মাঠ দখল করে খালের পাশে বিল্ডিং করা কখনোই ঠিক নয়। এর পেছনে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম রয়েছে”
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয়ের ০১৫৫৬৫০৬১৮ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন,
“শুধু ওয়াল কোনো সমাধান নয়। এটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে স্কুলের নিরাপদ জায়গায় ভবন স্থানান্তর করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো দুর্ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও তাইতোংপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি এবং উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষককে নিতে হবে।”
হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাবাসী শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কামনা করেছেন। চলবে… পর্ব-৩
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
