জুলাইয়ের রক্তের সাথে বেঈমানি, দেশ চাঁদাবাজি-লুটপাটের বস্তিতে পরিণত: মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সমন্বয় পরিষদ

নিজস্ব সংবাদদাতা—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পৃহা ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশের কোনো আমূল পরিবর্তন হয়নি। বরং মাঝখানে কিছু “টোকাই নেতা” তৈরি হয়েছে এবং রাজনৈতিক সিস্টেম আগের মতোই বহাল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সমন্বয় পরিষদ।

আজ সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে জুলাই বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ ছিল দেশে নাগরিক অধিকারের সাম্যতা ছিল না, কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে চাকরিতে স্বজনপ্রীতি ছিল, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ছিল, বাক স্বাধীনতা ছিল না এবং আইনের প্রয়োগ ছিল না।

কিন্তু ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপি সরকার এসে দেশের সামগ্রিক চিত্রের কোনো পরিবর্তন সাধন করতে পারেনি। বরং দেশ এখন চাঁদাবাজি ও লুটপাটের বস্তিতে পরিণত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “শেখ হাসিনার সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির পেছনে সিন্ডিকেটকে দায়ী করা হতো। কিন্তু বিগত দুই সরকার এসে তার ১ শতাংশও কমাতে পারেনি। উল্টো চাল, তেল, গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দাম ১০-২০% বেড়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, সিন্ডিকেট কে করে?”

সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দেশে এখন আইনের সুশাসন নেই, বাকস্বাধীনতা নেই। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে একের পর এক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে। বাংলাদেশ এখন ঋণ খেলাপিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। যে কোটা নির্মূলের আন্দোলন হয়েছিল সেই কোটা এখনো বহাল রয়েছে, অথচ এর বিরুদ্ধে এখন আর কারো প্রতিবাদ নেই।

বিবৃতিতে “মব জাস্টিসের” নামে দেশের আনাচে কানাচে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও পুলিশ হত্যার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই মবকে রাষ্ট্রীয়ভাবে “মানুষের সামগ্রিক ক্ষোভ” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

সংগঠন বলছে, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে শুধুমাত্র একটি সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির বিকাশকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মার্কিন দাসত্বকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আর কোনো পরিবর্তন সাধিত হয়নি।

এছাড়া গতকাল কক্সবাজারের মহেশখালীতে চুরিকাঘাতে এক হিন্দু নারী হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “তার সন্তানেরা পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকে, স্বামী বাজারে ছিল। কোনো অপরাধ ছাড়াই তাকে জীবন দিতে হলো। তার সন্তানেরা আজ মা-হারা। এর জবাব কে দিবে?”

বিবৃতিতে ৫ আগস্টের পর গত দুই বছরে নারী ও শিশুর উপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার বিচার দাবি করা হয়।

পরিশেষে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেছেন “আমরা হাজার হাজার মানুষ হত্যা, ঘরবাড়ি জ্বালাও-পোড়ানোর দৃশ্য দেখেছি। তাই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় আমাদের মানবিক উদ্বেগ কাজ করবে না। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করতে দেওয়া হবে না।”