কয়রায় সারের সংকট, বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ তৌহিদুর রহমান শান্ত—খুলনার কয়রায় আমন মৌসুমে ইউরিয়া ও টিএসপি সারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে তাঁদের। আবার কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

উপজেলার কয়রা বাজার, ফুলতলা, গিলাবাড়ি ও আহমদিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সার না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকটি দোকান বন্ধ থাকায় সার কিনতে এসে কৃষকদের ফিরে যেতে হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, বিশেষ করে টিএসপি সারের সংকট বেশি।

সম্প্রতি গিলাবাড়ি বাজারে সার কিনতে আসা সাতহালিয়া গ্রামের কৃষক আকবার আলী অভিযোগ করেন, তিনি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫০ টাকা বেশি দিয়ে এক বস্তা সার কিনেছেন।

গিলাবাড়ি বাজারের সার ডিলার আবদুল করিম সানার দোকান থেকে সার কেনা এক কৃষক বলেন , সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি কেজি তিন টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে।

খান সাহেব কোমরউদ্দীন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আশরাফুল আলম বলেন, ‘আজসহ গত দুই দিন আমি নিজে ইউরিয়া সারের জন্য আমাদের ইউনিয়নের সার ডিলার ও ওয়ার্ডের সাব-ডিলারদের কাছে ঘুরে হয়রান হয়েছি। শুধু আমি নই, আমার মতো অনেক কৃষকেরই একই অবস্থা। জায়গাভেদে বিভিন্ন শর্তে কৃষকদের জর্জরিত হতে হচ্ছে। কেউ বলছেন ১০ কেজি, কেউ ২০ কেজি, আবার কেউ ৩০ কেজির বেশি একজন কৃষককে ইউরিয়া দেওয়া যাবে না। যে কৃষক ১০-১৫ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন, তাঁর অবস্থা একবার ভাবুন।’

কৃষকদের ভাষ্য, প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাওয়ায় অনেকেই সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারছেন না। এতে আমন ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলেও দাবি তাঁদের।

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তিলক ঘোষ বলেন, সারের বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি গিলাবাড়ি বাজারে সরেজমিন তদন্ত করেছেন। সেখানে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগের সত্যতা তিনি পাননি।

তবে কৃষি বিভাগের এ বক্তব্যের সঙ্গে মাঠের পরিস্থিতির মিল নেই বলে দাবি করেছেন কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন বাজারে ঘুরেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় দ্রুত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কৃষকদের দাবি, বরাদ্দ অনুযায়ী সার সরবরাহ ও বাজারে সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা গেলে সংকট অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে নিয়মিত তদারকি, নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি এবং কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।