রূপান্তর বাংলা বিশেষ প্রতিনিধি—পার্বত্য জেলা বান্দরবানে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও পানি সংকট না কাটায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ঠিকাদাররা।
অভিযোগকারীদের দাবি, এত অনিয়মের অভিযোগের পরও অনুপম দে বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে রয়েছেন। এজন্য তারা পার্বত্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সহ জেলার প্রভাবশালী নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
“তারা কেন অনুপমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, জনগণের কাছে এর জবাব দেওয়া উচিত” – এমন দাবিও উঠেছে।
একটি অভিযোগে বলা হয়, অনুপম দে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি “শতভাগ” দেখিয়ে সীল-স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। অথচ বাস্তবে কাজের অগ্রগতি ততটা ছিল না।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সহজ-সরল মানুষ। মানুষের আকুতি ফেলতে পারেন না। তার এই সরলতার সুযোগ নিয়েই তাকে “নীল নকশার শিকার” বানানো হয়েছে। ফলে একটি ঘটনার কারণে তার দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে এখন প্রশ্ন উঠছে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলায় এ পর্যন্ত পানি সরবরাহ খাতে হাজার কোটি টাকার উপরে ব্যয় হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। কিন্তু শহর ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এখনও তীব্র পানি সংকটে ভুগছে।
স্থানীয়রা বলছেন, “টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু সুফল পাচ্ছে না জনগণ। নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে ক্যারিয়ার বা বান্দরবানবাসীর কথা চিন্তা করছেন না।”
এই প্রতিবেদক বলেন, “মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে জড়িয়ে অনেক সিনিয়র-জুনিয়র সাংবাদিক নিউজ করেছেন। তাদের বলব, তিনি শ্রেফ নীল নকশার শিকার। প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে রিপোর্ট করা দরকার।”
এই লেখা প্রকাশের পর নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে প্রতিবেদক আরও বলেন, “তবু সত্য বলা দরকার।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে’র বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলেছেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের আগে কাউকে দোষী বলা যাবে না।”
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
