সংবাদ শিরোনাম

খাগড়াছড়িতে সড়ক অবরোধের প্রতিবাদে পার্বত্য নাগরিক অধিকার পরিষদের চেয়ারম্যানের বিবৃতি: “পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো একক গোষ্ঠীর পৈতৃক সম্পত্তি নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড”

রুপান্তর বাংলা খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি–খাগড়াছড়ির রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়কের যৌথখামার এলাকায় ভোর ৬টায় আগুন জ্বালিয়ে এবং গাছ কেটে সড়ক ব্লকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য নাগরিক অধিকার পরিষদ (PNOP)।

আজ শনি বার এক বিবৃতিতে সংগঠনের চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, “অবরোধের নামে গভীর রাতে গাছ কেটে ও আগুন জ্বালিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন হতে পারে না। এতে পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি, ছাত্র, রোগী ও শ্রমজীবী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।”

তিনি বলেন, “যারা নিজেদের আদিবাসী দাবি করে সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তাদের ইতিহাস জানা উচিত।”

বিবৃতিতে তিনি ব্রিটিশ প্রশাসক ও নৃতত্ত্ববিদ টি. এইচ. লুইনের *’The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein, 1869’* বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন,

“লুইন স্পষ্ট লিখেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো একক গোষ্ঠীর স্থায়ী আবাসভূমি নয়। ১৫শ থেকে ১৮শ শতকে মায়ানমারের চিন পাহাড় ও আরাকান থেকে তিব্বত-বার্মা ভাষাগোষ্ঠীর কুকি-চিন গোষ্ঠী – ম্রো, খুমি, বম, পাংখোয়া, খিয়াং, লুসাইরা এখানে আসে। চাকমারা ১৬শ শতকে আরাকানের সংঘাতের কারণে আসে, যার ১৭১৫ সালে মুঘলদের তুলা-কর দেয়ার নথি আছে। মারমারা ১৭৮৪ সালে বার্মিজ রাজা বোদোপায়ার আরাকান দখলের পর ব্যাপকভাবে পালিয়ে আসে। ত্রিপুরারা আসে ত্রিপুরা রাজ্যের অস্থিরতায়।”

রানা বলেন, “লুইনের মতে কোনো গোষ্ঠীই অনাদি কাল থেকে এখানকার একমাত্র অধিবাসী নয়, সবাই বিভিন্ন সময়ের জটিলতায় অভিবাসী হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “১৮৬০ সালে Act XXII of 1860 এর মাধ্যমে ব্রিটিশরা আনুষ্ঠানিকভাবে Chittagong Hill Tracts জেলা গঠন করে। ১৯০০ সালে CHT Regulation জারি হয়। ১৯৪৭ সালে রাডক্লিফ অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে এই অঞ্চল পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। ১৫ আগস্ট ১৯৪৭-এ রাঙামাটিতে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন এবং স্নেহ কুমার চাকমার ভারতে গিয়ে নেতাদের সাথে দেখা করার ইতিহাসও সবার জানা।”

“CHT Regulation 1900 অনুসারে পাহাড়ের বেশিরভাগ জমিই ছিল সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন, জুমচাষ প্রথাগত অধিকারে চলত। ১৯৫৭-৬২ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৫৪,০০০ একর জমি ডুবে যায়, যা রাষ্ট্র তার নিজস্ব খাস জমিতেই করেছে। তাই ১৯৭১-এর স্বাধীনতার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসাবে স্বীকৃত, কোনো দখল নয়,” বলেন তিনি।

“একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে সবার অধিকার সমান। কিন্তু এই ভূখণ্ডকে ভারতের সাথে যুক্ত করার যে পুরনো চেষ্টা, তা আজও অবরোধ-অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে চলছে, যা সুস্পষ্টভাবে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী,” যোগ করেন PNOP চেয়ারম্যান।

তিনি প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানান:
১. রামগড়-জালিয়াপাড়াসহ সকল সড়কে আগুন ও গাছ ফেলে অবরোধকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা।
২. খাগড়াছড়ির সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার।
৩. পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য সকল পক্ষকে নিয়ে আলোচনা।

সবশেষে তিনি বলেন, আমরা সবাই সবার তরে, সুখে-দুঃখে থাকবো সবাই মিলেমিশে — এটাই PNOP-র অঙ্গীকার। পাহাড়ে আগুন নয়, শান্তি চাই।