স্টাফ রিপোর্টার : মোঃ জনি—রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় প্রবাসীর পরিবারের বাসার দরজার তালা ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা ও প্রায় ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. হাবিবুর রহমান (৬৮)। এ ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাত ১২টা ১৫ মিনিটে এজাহার গ্রহণের পর গেন্ডারিয়া থানায় মামলা নম্বর ১৫, তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৬ হিসেবে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। দণ্ডবিধির ৪৫৪, ৪৫৭ ও ৩৮০ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানাধীন ৫৩/১, কেবি রোডের বাসিন্দা ও কম্পিউটার ব্যবসায়ী। তাঁর প্রবাসী ছেলের স্ত্রী গেন্ডারিয়ার ১৪ নম্বর শাখারীনগর এলাকার একটি বাসায় বসবাস করেন। গত ১৪ অক্টোবর সকালে ওই বাসায় তালা লাগিয়ে তিনি মিরপুরে তাঁর বাবার বাড়িতে যান।
পরে গত ১৮ অক্টোবর দুপুরের দিকে পাশের বাসার এক ভাড়াটিয়া মুঠোফোনে হাবিবুর রহমানের স্ত্রীকে জানান, তাঁদের ছেলের বাসার দরজার তালা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজার তালা ভাঙা এবং ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।
এরপর ঘরের মালামাল পরীক্ষা করে স্টিল ও কাঠের আলমারির ড্রয়ার থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা।
এজাহারে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের তালিকায় রয়েছে এক জোড়া বালা, পাঁচটি চেইন সেট, তিন জোড়া ঝুমকা ও দুটি আংটি। এসব স্বর্ণালংকারের মোট ওজন প্রায় ১৮ ভরি এবং আনুমানিক মূল্য ৪২ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন বাদী। নগদ অর্থসহ চুরি হওয়া মালামালের মোট মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দণ্ডবিধির তিন ধারায় মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৪৫৪, ৪৫৭ ও ৩৮০ ধারায় অভিযোগটি রুজু করা হয়েছে। সাধারণভাবে এসব ধারায় অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে অনধিকার প্রবেশ, রাতে ঘরে অনধিকার প্রবেশ বা ঘর ভাঙার মাধ্যমে প্রবেশ এবং চুরির অভিযোগের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে মামলার চূড়ান্ত অভিযোগ ও অপরাধের প্রকৃতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
প্রবাসীর পরিবারের বাসায় এভাবে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিনের পর দিন বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ চুরি সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না এবং চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ উদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
