রুপান্তর বাংলা নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে পুলিশের সেবার মান ও আচরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিলে দেখা যায় ৮০ ভাগ পুলিশ সদস্যের ব্যবহারে জনগণ অসন্তুষ্ট। মাত্র ২০ ভাগ সদস্য ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ধরে রেখেছেন।
আজ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সমস্যাটা কোনো ব্যক্তির নয়, সমস্যাটা কাঠামোগত। বাংলাদেশ পুলিশ এখনো ব্রিটিশ আমলের ১৮৬১ সালের ঔপনিবেশিক পুলিশ আইন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যে আইন তৈরি হয়েছিল জনগণকে দমন করার জন্য, সেই আইন দিয়ে জনবান্ধব পুলিশ গঠন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান কাঠামোতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসে, পুলিশ সেই সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে পড়ে। নেতাদের তোষামোদ ও রাজনৈতিক নির্দেশে কাজ করতে বাধ্য হয়। ফলে সরকার বদলালেই পুলিশের চরিত্র বদলে যায়। সরকারের ইশারায় মামলা ও হয়রানির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, এভাবে চললে পুলিশের বদনাম সারাজীবনেও ঘুচবে না। পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হলে তাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে।
এ সময় তিনি দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ৩ দফা দাবি তুলে ধরেন –
১। ১৮৬১ সালের পুরনো পুলিশ আইন বাতিল করে যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।
২। পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে।
৩। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও শাস্তির ক্ষমতা ওই স্বাধীন কমিশনের হাতে দিতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা হলে পুলিশ আর কোনো নেতা-মন্ত্রীর ফোনে উঠবে-বসবে না। পুলিশ হবে আইনের সেবক, জনগণের সেবক। দেশের সাধারণ মানুষও আজ এই সংস্কারই চায়।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
