রূপান্তর বাংলা বিশেষ প্রতিনিধি—রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত বর্তমান এমপি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান আজ নিজ জেলাতেই অবহেলা আর অবমূল্যায়নের শিকার — এমন অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে রাঙামাটির সাধারণ মানুষ।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, একটি জেলায় একজন নির্বাচিত এমপি থাকলে তিনিই তো সবার মাথা। প্রটোকল অনুযায়ী তিনিই প্রধান। কিন্তু রাঙামাটিতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় উদাহরণ, মহামান্য রাষ্ট্রপতির রাঙামাটি জেলা সফরকে ঘিরে জেলা বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভার অনুষ্ঠান কে নিয়ে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির আগমন উপলক্ষে যে প্রস্তুতিমূলক অনুষ্ঠানটি হল, যেখানে রানিং এমপি হিসেবে দীপেন দেওয়ান মহোদয়ের মধ্যমণি হিসেবে থাকার কথা, সেখানে তাঁকে একপাশে বসিয়ে রাখা হয়। আর মধ্যমণি হিসেবে জেলা সভাপতি বসে থাকেন, যিনি আবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। একজন কেন্দ্রীয় সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এবং রানিং এমপির চেয়ে কি একজন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান/জেলা সভাপতি বড় হতে পারে? এই প্রশ্ন এখন রাঙামাটির চায়ের দোকান থেকে রাজপথে।
ইতিপূর্বে পার্বত্য জেলার প্রতি মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বেশ কয়েকবার রাঙ্গামাটিতে আগমন করেন তখন রাঙ্গামাটির নির্বাচিত এমপি মহোদয়কে অবগত করেননি এবং তার বিভিন্ন সফরে এমপি মহোদয়ের নাম রাখা হয়নি, যদিও প্রটোকল অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এমপির চেয়ে অনেক বড়, একজন মন্ত্রী প্রতি মন্ত্রী বাংলাদেশের যে কোন সংসদীয় আসনে যেতে পারবেন তবে ওই এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি মহাদয়কে সাথে রাখবেন এবং জনগণের সামনে যাবেন এমপি মন্ত্রী উপস্থিত থাকলে জনগণ আরো উৎসাহিত হবে আনন্দিত হবে। প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি দীপেন দেওয়ানকে পাশ কাটিয়ে অনেক কিছু করে যাচ্ছেন বলে জনগণের অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ জনগণ বলছে যেখানে সরকারের একজন শীর্ষ নেতা প্রতিমন্ত্রী পটোকল মেন্টেন করেন না সেখানে জেলা বিএনপি কিভাবে করবে।
যাকে আজ কোণঠাসা করা হচ্ছে, তিনি কোনো হঠাৎ আসা নেতা নন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৮ম ব্যাচের ছাত্র, রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটের আজীবন সদস্য।
৭ম বিসিএসে সিনিয়র যুগ্ম জেলা জজ।
রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠক।
রাঙ্গামাটি আইন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
পারিবারিক পরিচয়েও তিনি জাতীয়তাবাদী পরিবারের সন্তান। পিতা প্রয়াত সুবিমল দেওয়ান ছিলেন শহীদ জিয়ার মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা এবং রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি।
২০০৫ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এক ডাকে ১৯ বছর ১০ মাসের জজের চাকরি ছেড়ে বিনা স্বার্থে বিএনপিতে যোগ দেন। ১/১১-র কালো সময়ে যখন সব নেতা পালিয়েছিল, তিনি রাঙামাটি জেলা বিএনপি অফিসের তালা খুলে বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম প্রকাশ্যে অফিস খুলেছিলেন। দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য অনশন করেছেন। ২০১৬ সালে পুলিশ যখন কর্মীদের ধরে ভ্যানে তুলছিল, তখন তিনি রাজপথে বসে বলেছিলেন, “সাহস থাকলে আমাকে নিয়ে যান।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, “আমরা দল-মত নির্বিশেষে তাঁকে বিপুল ভোটে এমপি বানিয়েছি। তিনি কেন্দ্রীয় নেতা। অথচ জেলার কতিপয় নেতা তাঁকে সাইডে বসিয়ে রাখে, প্রোগ্রামে ডাকে না, মূল্যায়ন করে না। এই অবমূল্যায়ন সাধারণ জনগণ মেনে নিতে পারছে না।”
তৃণমূল বিএনপির এক কর্মী বলেন, “এমপি মহোদয় সবার মাথা, এটা না মানা মানে দলের শৃঙ্খলা না মানা। এই গ্রুপিং বন্ধ করতে হবে।” তৃণমূলের আরেক মহিলা কর্মী বলেন ইতিহাস কখনো কাউকে ক্ষমা করে না, আজ যা আমাদের এমপি মহোদয়ের সঙ্গে ঘটছে তা কাল যে আপনার সঙ্গে ঘটবে না তার কোন গ্যারান্টি আছে।
রাঙ্গামাটির মানুষের এখন একটাই দাবি, রানিং এমপি এবং কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে দীপেন দেওয়ানকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। ব্যক্তিগত গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দলের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
