ময়মনসিংহ থেকে সিরাজুল হক সরকার ঃ ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দেশের অন্যান্য উপজেলার কমপ্লেক্সের চেয়ে সেবার দিক দিয়ে অনেকটা এগিয়ে। মুক্তাগাছা হাসপাতালটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরেই ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত। এর মূল কারণ হচ্ছে মুক্তাগাছা উপজেলাটি তিন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভৌগোলিক অবস্থান মুক্তাগাছা উপজেলার সাথে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার একটি অংশ। জামালপুর সদর উপজেলার একটি অংশ, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা সংলগ্ন ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সংলগ্ন হওয়ায় এসব উপজেলা থেকে রোগীদের চাপ এখানে বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ।
মুক্তাগাছা হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ১৫’শ রোগী বহিঃবিভাগ সেবা নিতে আসেন। এখানে জরুরী বিভাগেও গড়ে প্রতিদিন ৩-৪’শ রোগী সেবা দেওয়া হয়ে থাকে এবং গড়ে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন রোগী আন্তঃবিভাগে ভর্তি থাকে। তাছাড়া মুক্তাগাছা হাসপাতালে সকল ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এক্স-রে, ইসিজি, আলট্রা, অপারেশন থ্রিয়েটার ও লেবার ওয়ার্ড রয়েছে এখানেও পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। যার দরুন গ্রামের সাধারণ মানুষ জেলা শহরের ব্যয় বহুল খরচ থেকে বাচার জন্য মুক্তাগাছার কমপ্লেক্স দিকে ধাবিত হয়ে থাকেন। এখানে সরকারি বিনা মূল্যে পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ সহ গ্রামের সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত সেবা পেয়ে এই কমপ্লেক্স ভীড় জমায়। অন্যদিকে সেবার পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ সরকারি রাজস্ব আসে বাৎসরিক ৫০-৭০ লক্ষ টাকা। একদিকে সেবা অন্যদিকে সরকারি রাজস্ব ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে কমপ্লেক্স শ্রেষ্ঠ। সারা বাংলাদেশে শ্রেষ্ঠ উপজেলা কমপ্লেক্স মধ্যে প্রতি বছরই এ মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১-১০ এর মধ্যে অবস্থান। অন্যদিকে মুক্তাগাছা আবাসিক কোয়াটারগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। বাউন্ডারি ওয়াল নিচু ও সুরঙ্গ থাকায় বহিরাগতরা অনায়াসে যাতায়াত করায় হাসপাতালের নিরাপত্তা হুমকীর সম্মুখীন। হাসপাতালের তিন ভবন পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলোর জরুরী ভিত্তিতে অপসারণ করে নতুন বিল্ডিং স্থাপন করে ডাক্তার ও স্টাফদের থাকার সুব্যবস্থা করা অতি প্রয়োজন। বর্তমানে যে কয়েকটি ভবনে স্টাফরা বসবাস করছে এগুলো অনেক নিম্নমানের। এগুলোর রিপেয়ারিং এর কোনো ব্যবস্থা নেই অথচ এদের বেতন থেকে পূর্ণ হাউস রেন্ড কর্তন হয়ে থাকে। শ্রেষ্ঠ সেবা দানকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান ও কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের দিক বিবেচনা করে এ কমপ্লেক্স এর আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য সুবিধাগুলো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তারা জনসেবা করলেও সরকারি সুবিধা থেকে নিজেরা বঞ্চিত। মুক্তাগাছা হাসপাতালে ডাক্তার স্বল্পতা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর স্বল্পতা রয়েছে। ষ্টোর কিপারের পদটি দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য। একজন জুনিয়ার মেকানিক দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ভারপ্রাপ্ত ষ্টোর কিপারের মাধ্যমে ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৪টি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের ল্যাব, এক্স-রে, ইসিজি, আলট্রা, বহিঃবিভাগ, আন্তঃবিভাগ, লেবার ওয়াড ও গর্ভবতী মায়েদের সেবা কর্নারসহ যাবতীয় মালামাল ও ঔষধ সরবরাহ হয়ে থাকে। এত বড় দায়িত্ব যথাযথভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক পালন করে আসছে ষ্টোর কিপার। এ ব্যাপারে ষ্টোরের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা এ এফ এম মাহমুদ আল ফরিদ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান আমাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার এর নির্দেশ মোতাবেক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
