এম এ রাশেদ চৌধুরীঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও লোহাগাড়া উপজেলায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিসের উদ্যোগে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ভোটগ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সততা, নিরপেক্ষতা ও সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান, মেজর মো. আসিফুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মঈনউদ্দিন হাসান, আনসার ও ভিডিপির সহকারী পরিচালক ফরিদা পারভিনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন,
“আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের একটি রূপরেখা।
এটি একটি ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশকে মেরামতের আয়োজন। এই আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখানে একটাই জয়—মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা, নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা।”
তিনি আরও বলেন,
“ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও ভোটারদের নিরাপত্তায় আনসার, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অতীতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়ায় রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমরা সেই দায় থেকে বের হতে চাই।”
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন,
“সেনাবাহিনী আমাদের আশ্বস্ত করেছে—যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ৩ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে এবং সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। তবে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের।”
তিনি জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। কোনো অনিয়ম হলে দায়মুক্তির সুযোগ থাকবে না।
গণভোট প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন,
“দলীয় ভোটের পাশাপাশি গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভোটাররা প্রশ্ন করবেন, সেখানে ‘আমি জানি না’ বলার সুযোগ নেই। ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে এবং আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন,
“সরকারি কর্মচারী হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় নিরপেক্ষতা। আইন যে নির্দেশনা দেবে, সেটি মানতে হবে। প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকার করতে হলেও সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।”
সভা শেষে জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে, যাতে ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়ে হাসিমুখে ঘরে ফিরতে পারেন।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
