এম এ রাশেদ চৌধুরী: চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা সতীশ বাবু লেইনে অটোরিকশার যাত্রীকে ছোরার ভয় দেখিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভাইরাল ভিডিওতে শনাক্ত মূলহোতা ও ৯ মামলার আসামি মো. সাদ্দাম হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে কর্ণফুলী থানার উত্তর শিকলবাহা এলাকার তালতল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিএমপির ডিবি (উত্তর-দক্ষিণ) বিভাগের টিম-৩১ এ অভিযান চালায়।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার সতীশ বাবু লেইনে মুজিবুর রহমানের ছয়তলা ভবনের সামনে এক অটোরিকশার যাত্রীকে গতিরোধ করে ছোরার ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় একদল ছিনতাইকারী। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে ডিবির টিম-৩১ ভিডিও বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান শুরু করে।
পুলিশের দাবি, অভিযানে ভাইরাল ভিডিওতে সাদা টি-শার্ট পরিহিত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার অবস্থান নিশ্চিত করে উত্তর শিকলবাহা এলাকা থেকে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, সাদ্দাম একজন পেশাদার ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য। ২০২৫ সালে কোতোয়ালী থানার টেরিবাজার এলাকায় একই ধরনের একটি ঘটনায় এক নারীকে ছুরিকাঘাত করে স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, সাদ্দামের প্রকাশ্য কোনো জীবিকা নেই। তার সহযোগী হিসেবে মাইন উদ্দিন ওরফে বান্ডুর নামও পুলিশের বক্তব্যে এসেছে। পুলিশের দাবি, তারা ছিনতাই করে জীবিকা নির্বাহ করে।
গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও দ্রুত বিচার আইনে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলা বিচারাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সাদ্দামের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রপান্তর বাংলা অনিয়মের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে
