তারাকান্দায় NID করতে এসে সহযোগীসহ রোহিঙ্গা নারী আটক

তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা—ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) তৈরি করতে এসে এক রোহিঙ্গা নারী ও তার সহযোগী আটক হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তারাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে NID তৈরির জন্য গেলে পরিচয় যাচাইয়ের সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক নারী কীভাবে বাংলাদেশি পরিচয়ে NID তৈরির চেষ্টা করেছিলেন এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।তারাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে গিয়ে সন্দেহের মুখে পড়েন রাবেয়া বেগম নামের ওই নারী। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা নূর ইসলামকেও আটক করা হয়।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাবেয়া বেগম উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বাহেলা গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করে অনলাইনে ভোটার হওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে তাঁর বাবার নাম আব্দুল গফুর ও মায়ের নাম আমিনা খাতুন উল্লেখ করা হয়। তবে আবেদন যাচাইয়ের সময় তাঁর দেওয়া তথ্য নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে নির্বাচন কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে তারাকান্দায় তাঁর স্থায়ী বসবাসের তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জানানো হয়।সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী তারাকান্দার বাসিন্দা নন এবং কক্সবাজার এলাকার বাসিন্দা বলে স্বীকার করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভোটার হওয়ার আবেদনের সঙ্গে রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত জন্মসনদ এবং স্থানীয় বাট্টা মিলন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দেওয়া নবম শ্রেণি পাসের সনদপত্র দাখিল করা হয় বলে জানা গেছে।এসব নথির সত্যতা এবং কীভাবে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে,তা যাচাই করা হচ্ছে।

এদিকে,রাবেয়া বেগমের সঙ্গে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা নূর ইসলামের ভূমিকা নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার হওয়ার চেষ্টা এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

তারাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশিকুর রহমান সরকার বলেন, ‘সন্দেহ হওয়ায় ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।পরে তাঁর তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তাঁকে সহযোগীসহ তারাকান্দা থানা পুলিশের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে